দ্য ওয়াল ব্যুরো, কোচবিহার: কৌশলে সই করিয়ে নিয়ে ডিভোর্স দিয়েছিলেন প্রথম স্ত্রীকে। ফের বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যান স্বামী। এমনই অভিযোগ এনে সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই স্বামীর বাড়ির সামনে ধর্ণায় বসেন প্রথম স্ত্রী। বৌমাকে সমর্থন করে ছেলের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেন মা'ও।
ঘটনাটা কোচবিহারের নিউটাউন এলাকার। পুলিশ জানিয়েছে, যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে সেই ব্যক্তির নাম দীপক কুমার সাহা। দীপক নিউটাউন এলাকার এক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর ছেলে। দেখাশোনা করেই ২০১১ সালে দিনহাটা মহকুমার বামনহাট এলাকার বাসিন্দা স্নিগ্ধার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের তিন বছরের একটি ছেলেও আছে।
স্নিগ্ধা জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকেই নানা ব্যাপারে তাঁর সঙ্গে অশান্তি করতেন দীপক। তাঁদের সন্তান আসার পরেও অন্য এক মহিলার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন তাঁর স্বামী। এই নিয়ে তাঁদের মধ্যে মাঝে মাঝেই বচসা হত। স্নিগ্ধার অভিযোগ, দিনকয়েক আগে কিছু কাগজে তাঁকে সই করতে বলেন দীপক। তিনি বিশ্বাস করে সই করেও দিয়েছিলেন। পরে জানতে পারেন, সেটা ছিল ডিভোর্সের কাগজ। কৌশলে তাঁকে দিয়ে সই করিয়ে বিবাহ বিচ্ছেদ করিয়ে নিয়েছিলেন দীপক।
এর পরেই অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করতে উদ্যোগী হন তিনি। পুলিশকে স্নিগ্ধা জানিয়েছেন, তাঁর হাতে আইনের কাগজ ধরিয়ে দিয়ে দীপক জানিয়েছিলেন তিনি দ্বিতীয়বার বিয়ে করতে চলেছেন। এই খবর শুনেই আজ, বৃহস্পতিবার দীপকের বাড়ির সামনে ধর্ণায় বসেন স্নিগ্ধা। সঙ্গে নেন তাঁদের তিন বছরের ছেলেকেও। দীপকের মা গায়ত্রীদেবীও ছেলের বিরুদ্ধেই আওয়াজ তোলেন। তিনিও স্নিগ্ধার সঙ্গেই ধর্ণায় বসেন। এ দিন সন্ধে পর্যন্ত তাঁদের অবস্থান চলে। পরে, পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্নিগ্ধা। অন্যদিকে, স্ত্রীয়ের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দীপক বলেছেন, "আইন মেনেই আমাদের ডিভোর্স হয়েছে। ইচ্ছা করে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। আমার মা'কে জোর করে এর মধ্যে সামিল করা হয়েছে।"