দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদা : কয়েক দিন ধরেই জল বইছিল বিপদসীমার উপর দিয়ে। এ বার বাঁধ ভাঙল ফুলহার নদীর। হু হু করে জল ঢুকছে রতুয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায়। কান পাতলে জলের গর্জনে শিউরে উঠতে হয়। প্লাবিত রতুয়া ১ নম্বর ব্লকের সূর্যপুর। আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা বাঁধ ভাঙ্গার জন্য দায়ী করছেন প্রশাসনকেই। রতুয়া ব্লকের বিডিও জানিয়েছেন বন্যা কবলিতদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
দিন কয়েক ধরেই উত্তরবঙ্গ জুড়ে চলছে ভারী বৃষ্টি। ফুলে ফেঁপে ওঠে ফুলহার নদী। বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছিল জল। মাস দুই আগেই বাঁধ ভেঙে নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছিল রতুয়া ১ ব্লকের কাহালা অঞ্চলের সূর্যপুর এলাকার একাংশ। তারপরই প্রশাসন ও সেচ দফতরের উদ্যোগে জল আটকাতে তৈরি করা হয়েছিল রিংবাঁধ। তবে রক্ষা হল না। বৃহস্পতিবার ভোররাতে সেই রিংবাঁধ ভেঙে জল ঢুকতে শুরু করে রতুয়া, কাহালা, দেবীপুর, বাহারালের বিস্তীর্ণ এলাকায়। ফুলহারের জল কালিন্দী নদীতে পড়ে জল ঢুকতে শুরু করেছে চাঁচল ২ ব্লকের ধানগড়া অঞ্চলেও। উৎসবের মরসুমে চরম সমস্যায় হাজার হাজার পরিবার। বাগান, জমি, রাস্তাঘাট সবই জলের তলায়।
https://www.youtube.com/watch?v=KjKUNLRTVf8&feature=youtu.be
বাসিন্দাদের অভিযোগ, জল আটকাতে প্রশাসন যে বাঁধ তৈরি করেছিল সেটি ভেঙে গিয়েছে। শুখা মরসুমে কাজ করলে আজ এমন অবস্থা হত না। গ্রামের বাসিন্দা প্রণব সিংহ ও বিপ্লব পোদ্দার বলেন, ‘‘ফুলহারের জল বাড়লে যে এমন বিপদ হয়, তা কারও অজানা নয়। তবুও শুখা মরসুমে বাঁধ দেওয়ার কাজ হল না। বাঁধ দেওয়া হল বর্ষায়। ফল যা হওয়ার তাই হল। আবারও বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হল গোটা এলাকা।’’
খবর পেয়েই সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রতুয়া ১ নম্বর ব্লকের বিডিও সারওয়ার আলি। তিনি বলেন, ‘‘সূর্যপুরে বাঁধ ভেঙে জল ঢুকছে গ্রামের দিকে। আমরা গ্রামবাসীদের সচেতন করেছি। স্থানীয় স্কুলগুলিতে শিবির করা হয়েছে। ত্রাণ সামগ্রী বিলি করা হবে। আমরা সবরকম ভাবে প্রস্তুত রয়েছি।’’