দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া : দেওয়াল দখল নিয়ে কাজিয়া। সভাস্থল বাছাই নিয়েও। একের বিরুদ্ধে অন্যের তোপ তো আছেই। ভোটের মুখে এ সবই চলতে থাকে। বাড়ে উত্তাপ। শুভজিতার কেক সেখানে যেন এক ঝলক ঠাণ্ডা হাওয়া।
ক্রিমে ঠাসা ছোট-বড়-মাঝারি মাপের কেক কখনও সেজে উঠছে জোড়া ফুলে, তো কখনও পদ্মফুলে। কাস্তে হাতুরি তারার নকশাও তোলা হচ্ছে কেকের গায়ে। হাতের ছবিও ব্রাত্য নয়। এই কেকে কামড় বসালেই রসনা তৃপ্তি তো নিশ্চিত, সাধ আহলাদ আরও গাঢ় হচ্ছে যুযুধানদের সহাবস্থানে।
শান্তিপুরের সর্বানন্দ পাড়ার শুভজিতা দাস পেশায় স্কুল শিক্ষিকা। পাশাপাশি একটি ছোটমোটও বেকারিও চালান তিনি। ভোটের মরসুমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতীক উঠে এসেছে তাঁর তৈরি কেকে। শুভজিতা বললেন, “সবসময়েই কিছু না কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাতে ভাল লাগে আমার। কেকের স্বাদ আর দেখনদারিতে। এখন ভোটের মরসুম। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীরা তো বটেই সাধারণ মানুষও ভোট নিয়ে উৎসাহিত। সব ভেবেই এমন কেক তৈরি করছি। ব্যাপারটা সবার নজরে পড়েছে। ভাল সাড়া পাচ্ছি। ইতিমধ্যেই অনেক কেকের অর্ডার পেয়েছি।”
শুভজিতার কাছ থেকে কেক খেয়েছেন রানাঘাটের বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ সরকারও। উচ্ছ্বসিত জগন্নাথবাবু বললেন, “যে দিন মনোনয়ন পত্র জমা দিলাম, সে দিন আমাদের দলের কর্মী সমর্থকরা ওনার কাছ থেকে কেক কিনে এনেছিলেন। পদ্মফুল কেক। আমিই সে দিন কেক কেটেছি। দারুন ব্যাপার।”
এলাকার কংগ্রেস কর্মী বিধুভূষণ মণ্ডল বললেন, “আমরাও আমাদের দলের প্রতীকে তৈরি কেক খেয়েছি। একবার নয়, এরমধ্যে বেশ কয়েকবার। সবাই জন্মদিনে কেক কাটে। আমরা ভোটের খাটাখাটনির মধ্যে শুভজিতাদেবীর তৈরি কেক কেটে আর খেয়ে একটু আনন্দ খুঁজে পাচ্ছি।”
এতো গেল রাজনৈতিক দলগুলির নেতা কর্মীদের কথা, সর্বানন্দ পাড়ায় তাঁর পড়শিরাও মজেছেন শুভজিতার কেকে।