মৃন্ময় পান, বাঁকুড়া : জয়ী হলেন স্বামী। হাঁপ ছাড়লেন স্ত্রী। তারপরেই তাঁর প্রশ্ন, যিনি বলেছিলেন একটাও বুথে তাঁর স্বামী জিতলে রাজনীতি করা ছেড়ে দেবেন, এ বার কী করবেন তিনি? সত্যি সত্যি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন তো? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছেন সুজাতা খাঁ।
সুজাতার কথায়, “মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো প্রচারে এসে বলেছিলেন, আমার স্বামী একটাও বুথে যদি জয়ী হয়, তবে উনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। তিনি তো হাজার হাজার বুথে জয়ী হয়েছেন। আমি এ বার একটা কথাই বারবার বলতে চাই, তিনি কবে রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেবেন? সে দিন আমার মতো সুখী মানুষ আর কেউ থাকবে না।”
সুজাতা বিষ্ণুপুরের বিজেপি প্রার্থী সৌমিত্র খাঁর স্ত্রী।
প্রচার করা তো দূর অস্ত, গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন একবারও জেলায় পা রাখতে পারেননি সৌমিত্র। আদালতের নির্দেশে। কারণ প্রতারণা, বেআইনি অস্ত্র রাখা সংক্রান্ত একাধিক মামলায় অভিযুক্ত সৌমিত্র ছ সপ্তাহ বাঁকুড়ায় ঢুকতে পারবেন না বলে নির্দেশ জারি করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। পরে সুপ্রিমকোর্টে গিয়ে একদিনের জন্য বাঁকুড়ায় ঢোকার অনুমতি পান। সে দিনই মনোনয়ন জমা দিয়ে ছেড়ে যেতে হয় জেলা। তারপর থেকেই ভোট বৈতরণী পার করানোর দায়িত্ব বর্তায় তাঁর স্ত্রী সুজাতা খাঁর উপরেই।
স্বামী প্রচার করতে পারছে না, কোনও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারছেন না, তার যা ক্ষতি তা পুষিয়ে দিতে যেন কোমর বেঁধে নেমেছিলেন সৌমিত্রর স্ত্রী সুজাতা। দিন নেই, রাত নেই, চষে ফেলেছেন গোটা নির্বাচনী এলাকা। বর্ণাঢ্য প্রচার মিছিলে কখনও কীর্তন গেয়েছেন, কখনও অ্যাম্বুল্যান্সের গায়ে সৌমিত্রর নাম ঢেকে দেওয়ায় জ্বলে উঠেছেন প্রতিবাদে। প্রচারের তীব্রতা যত বেড়েছে ততই নজর কেড়েছেন তিনি। ভোটের দিন পর্যন্ত।
আগে কোনও দিন রাজনীতি করেননি সুজাতা। বাধ্য হয়ে ঢুকে পড়া। তবে সাংগঠনিক ক্ষমতা যে তাঁর রয়েছে মাত্র কয়েকদিনেই প্রমাণ করে দেন। এখানেই শেষ নয়, তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের একাংশের ক্ষোভও স্বামীর ভোটবাক্স পর্যন্ত এনে ফেলতে সক্ষম হন তিনি।
অবশেষে এল সেই দিন। নিশ্চিন্ত হলেন সুজাতা। তাঁর দলের কর্মী সমর্থকদের কথায়, “পত্নীর পুণ্যে শেষ হাসিটা হাসলেন সৌমিত্রও।”