
শেষ আপডেট: 20 January 2019 18:30
ঝাল-তেল-মশলা-আনাজ সহযোগে শুধু মশলা মুড়ি নয়, এই মেলায় মুড়ি খাওয়ার আরও একটা রেওয়াজ আছে। নদের তীরে গর্ত খুঁড়ে জল বার করে সেই জলে ভিজিয়ে মুড়ি খাওয়াটা রীতি। অতীতে তেমনটাই হত। রীতির সঙ্গে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস। বাঁকুড়ার এক নম্বর ব্লকের কাছে কেঞ্জাকুড়া। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে দ্বারকেশ্বর। এই নদের পাড়ে রয়েছে সঞ্জীবনী মাতার আশ্রম। এই আশ্রমে বহু প্রাচীন কাল থেকে মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে হরিনাম সংকীর্তন হয়ে আসছে। ফি বছর সেই নাম-সংকীর্তন চলে মাঘ মাসের প্রথম সপ্তাহ-জুড়ে। আর শেষ দিন ৪ ও ৫ তারিখে বসে মেলা।

গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, এই মেলা চলে আসছে প্রায় ২০০ বছর ধরে। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এলাকার ভান্ডারবেড় গ্রামের জমিদার পরিবারের সন্ন্যাসী রায়কিশোর চট্ট্যোপাধায়। জমিদার পরিবারে জন্ম হলেও তিনি যুবক বয়সে সন্ন্যাস নিয়ে তীর্থক্ষেত্রে চলে যান। পরে তিনি গ্রামে ফিরে আসলেও শর্ত দেন, তিনি কারও বাড়িতে থাকবেন না। তাঁর জন্য দ্বারকেশ্বর নদের তীরে বাড়ি বানিয়ে দিতে হবে। সেই বাড়িই এখন সঞ্জীবনী মন্দির।
https://www.youtube.com/watch?v=OrIYNwExUDk&feature=youtu.be
জনশ্রুতি রয়েছে, এক সময় এই এলাকা ছিল ঘন জঙ্গলে ঢাকা। দূর দূরান্ত থেকে ভক্তরা হরিনাম শুনতে আসতেন আশ্রমে। আশ্রম লাগোয়া জঙ্গলে ছিল হিংস্র জীবজন্তুর ভয়। ভোর থেকে শুরু হওয়া মেলা বিকেল বেলায় শেষ হলেও হিংস্র শ্বাপদের ভয়ে সন্ধেতে কেউই বাড়ি ফিরতে সাহস করতেন না। সঙ্গে করে বেঁধে আনা মুড়ি-বাতাসাই ছিল ভরসা। নদের জলে মুড়ি ভিজিয়েও খেতেন অনেকে। মুড়ি খাওয়ার সেই রেওয়াজ ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হতে শুরু করে এলাকাবাসীর মধ্যে। আজ তাই মেলার চেহারা নিয়েছে।
[caption id="attachment_72907" align="aligncenter" width="624"]
মাটি খুঁড়ে চলছে জল বার করা।[/caption]
মেলার আয়োজনও বেশ এলাহি। সেই মকর সংক্রান্তির দিন থেকেই লোকের আনাগোনা শুরু হয়ে যায়। আশপাশের ৫০-৬০টি গ্রামের ভিড় জমান কেঞ্জাকুড়ায়। সঙ্গে করে বেঁধে আনেন মুড়ি, চপ থেকে মরসুমি আনাজ। নদের চরে থালা সাজিয়ে চলে মুড়ি মাখা। কাজের সুত্রে যাঁরা গ্রামের বাইরে থাকেন, বছরের এই দিনগুলিতে ফিরে আসেন নিজের গ্রামে। হই হুল্লোড়, খাওয়া দাওয়ায় রীতিমত উৎসব মুখর হয়ে ওঠে দ্বারকেশ্বরের চর।