দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি : হিমঘরে গ্যাস লিকে আতঙ্ক ছড়ালো মোহিতনগর এলাকায়। সোমবার ভোর রাতে ছাদের কার্নিস ভেঙে পড়ে গ্যাস পাইপের উপর। তারপরেই কটূ গ্যাসের গন্ধ ছড়াতে থাকে গোটা এলাকায়। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন মানুষজন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কোতয়ালি থানার পুলিশ ও দমকল। বন্ধ করে দেওয়া হয় মেন ভাল্ভ।
অ্যামোনিয়া গ্যাসের তীব্র গন্ধে শ্বাসকষ্ট শুরু হয় অনেকের। তবে দমকল কর্মীরা দ্রুত মেন ভালভ বন্ধ করে দেওয়ায় গন্ধ কমতে থাকে। জল স্প্রে করে কুলিং এর কাজ শুরু করেন দমকল কর্মীরা। এই ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। কেন গ্যাস পাইপ নিয়মিত পরীক্ষা করা হয় না ? সেই প্রশ্ন তুলে স্থানীয় মানুষজন দমকল কর্মীদের জলপাইগুড়ি কোল্ড স্টোরেজের ভিতর আটকে রাখে। পরে ৯ জন অসুস্থ দমকল কর্মীকে উদ্ধার করেন স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধিরা। গ্যাসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্কে দোতলা থেকে লাফ দিয়েছিলেন হিমঘরের ম্যানেজার। পড়ে গিয়ে হাত পা ভেঙে যায়। হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তাঁরও।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০০৩ সালে একবার এই কোল্ড স্টোরেজ থেকে গ্যাস লিক হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, এই বিষাক্ত গ্যাস লিক হলে কী করা উচিৎ সে সম্পর্কে তাঁদের কোনও ধারণা দেওয়া হয়নি। তেমনই গ্যাস লিক আটকানোর জন্যেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ দিন পাইপ থেকে গ্যাস লিক করে বিস্ফোরণ হয়। তাতে উড়ে যায় এই বেসরকারি হিমঘরের দেওয়ালও। ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্তত ৮০,০০০ প্যাকেট অর্থাৎ ৪০০ লরি আলু নষ্টের আশঙ্কা করা হচ্ছে।