দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: ওঝার কেরামতিতে শেষরক্ষা হল না। শেষে প্রাণ দিতে হল ফুটফুটে মেয়েটিকে। সাপে কাটা রোগীদের নিয়ে ওঝার ঝাঁড়ফুক বা কুসংস্কারের বিরুদ্ধে যতই স্লোগান উঠুক এই রীতি-রেওয়াজের যে বিন্দুমাত্র বদল ঘটেনি তারই প্রমাণ জলপাইগুড়ির রাহুতবাগান এলাকায় নাবালিকার মৃত্যু।
মেয়েটির নাম মধুমিতা দেব। কুমুদিনী বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মধুমিতার মা অসুস্থ ছিলেন। তাই রান্নার কাজ সেই করত। শনিবার সন্ধেয় মায়ের জন্য চা বানাতে রান্নাঘরে ঢোকে। তখনই তার পায়ে ছোবল মারে একটি গোখরো সাপ। মেয়েটির পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, একটি ব্যাঙ মেয়েটির পায়ের কাছে বসেছিল। সেটিকে ধরতে গিয়েই মেয়েটির পায়ে ছোবল বসিয়ে দেয় সাপটি।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সাপে কাটার পর মেয়েটিকে স্থানীয় হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে এক ওঝার কাছে নিয়ে যায় তার পরিবার। সাপের বিষ বার করার জন্য এর পর ওঝা তার কেরামতি দেখাতে শুরু করে। প্রথমে মেয়েটির মুখে নুন দেওয়া হয়। ওঝার দাবি ছিল, মেয়েটির মুখে নুনের স্বাদ তেঁতো হলে বোঝা যাবে বিষ আছে, আর স্বাদ স্বাবাপিক হলে বুঝতে হবে বিষ নেই।
যতক্ষণ এই বুজরুকি চলে মেয়েটির হৃদস্পন্দনও কমতে শুরু করে। শেষে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে মেয়েটির বাড়িতে আসেন সর্প বিশেষজ্ঞ বিশ্বজিত চৌধুরী। তিনিই বাড়ির উটোনের মাটি খুঁড়ে সাপটিকে উদ্ধার করেন। পরে, কুসংস্কার বন্ধ করার জন্য এলাকায় সচেতনতার প্রচারও চালান তিনি।