দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘড়ির কাঁটা তখন প্রায় দুটো ছুঁইছুঁই। কাঠফাটা রোদে পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে চারপাশ। ভোটের লাইনে কিন্তু তার কোনও প্রভাব নেই। সর্পিল গতিতে লম্বা লাইন চলেছে ধীরেসুস্থে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ ছাড়া আর তেমন কোনও কাজ নেই পুলিশ কর্মীদেরও।
হঠাৎই বাচ্চার তীক্ষ্ম কান্নার আওয়াজ শুনে নড়েচড়ে বসলেন জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার কন্সটেবল সুদীপ পাল। কান্না থামছিল না কিছুতেই। বাধ্য হয়েই চেয়ার ছেড়ে দেখতে ওঠেন সুদীপ। লাইনের প্রায় শেষপ্রান্তে তখন সেই বাচ্চাটির কান্না থামাতে হিমশিম খাচ্ছেন তার মা। কৌতুহলী হয়েই এগিয়ে গিয়েছিলেন সুদীপ। কড়া রোদে তেতেপুড়ে নাজেহাল অবস্থা শিশুটির। পরম মমতায় তাকে কোলে নিয়ে ছায়ায় সরে আসেন ওই পুলিশকর্মী। তাতেও থামানো যাচ্ছে না দেখে, বুথের যেখানে ফ্যান চলছে সেখানে নিয়ে যান। তখনও কেঁদে চলেছে সে। তার মা তখনও ভোটের লাইনে। এরপরেই অরূপরতন। নিজের মোবাইল ফোনটি নিয়ে বছর দেড়েকের শিশুটিকে দেখালেন পুলিশকর্মী সুদীপ। আর তাতেই ম্যাজিক। কান্না থামে শিশুটির। স্বস্তির শ্বাস ফেলেন সুদীপ। দূরে লাইনে দাঁড়িয়ে নিশ্চিন্ত হন তার মাও।
বাঁকুড়ার পাত্রসায়রে রবিবার ভোটের ডিউটি করতে গিয়েছিলেন জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার কন্সটেবল সুদীপ। কুশদ্বীপ মাখনলাল স্কুলের বুথে। সুদীপের এমন ভূমিকায় গর্বিত জলপাইগুড়ি জেলার এসপি অমিতাভ মাইতিও। বললেন, “পুলিশ কর্মীরাও তো সব সাধারণ বাড়িরই ছেলে। ওদেরও মন আছে। সেই মনেরই প্রকাশ দেখিয়েছে সুদীপ। ভিনজেলায় গিয়ে ওর এমন ভূমিকায় আমি সত্যিই খুব খুশি।”
আর সুদীপ বললেন, “ভাগ্যিস সে সময় কোনও অশান্তির ঘটনা ঘটেনি। তাই শিশুটিতে কোলে নিয়ে প্রায় ৪০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে পেরেছি। না হলে ওর মায়ের হয়তো আর ভোটই দেওয়া হত না। আসলে আমারও তো এই বয়সের একটা মেয়ে আছে, তাই বাচ্চাটাকে ওই ভাবে কাঁদতে দেখে খারাপ লাগছিল খুব।”