
শেষ আপডেট: 11 July 2019 09:23
খারাপ আবহাওয়ায় মাছ ধরতে গিয়ে রবিবার চারটি ট্রলার ডুবে গিয়েছিল বঙ্গোপসাগরে। পশ্চিমী হাওয়ায় বাংলাদেশের দিকে চলে গিয়েছিল ভারতীয় ট্রলারগুলি। সেখানেই হাঁড়িভাঙা চরের কাছে ডুবে যায়। চারটি ট্রলারে ৬১ জন মৎস্যজীবী ছিলেন। ৩৪ জনের খোঁজ মিললেও এখনও নিখোঁজ বাকিরা। এই তালিকাতেই একটা নাম ছিল রবীন্দ্রনাথ দাস। ডুবে যাওয়া ট্রলার এফ বি নয়ন এ সওয়ার হয়ে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন তিনি। ট্রলারডুবির খবর আসতেই বাংলাদেশের সঙ্গে তালমিল রেখেই চলছিল মৎস্যজীবীদের খোঁজে তল্লাশি।
বাংলাদেশের প্রখ্যাত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কেএসআরএম গ্রুপের মালিকানাধীন বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ এমভি জাওয়াদ। বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টার দিকে সাগরে ভাসমান বছর ৪৫- এর রবীন্দ্রকে দেখতে পান এই জাহাজের নাবিকরাই। তখনই তাঁর দিকে বয়া ও লাইফ জ্যাকেট ছুঁড়ে দেন তাঁরা। তবে শুধু লাইফ জ্যাকেটটিই ধরতে পারেন রবীন্দ্রনাথ। খড়কুটোর মতো আঁকড়ে ধরেন সেটিকে।
এরপরেই এমভি জাওয়াদ থেকে পার্শ্ববর্তী জাহাজ, বাংলাদেশ নেভি ও কোস্টগার্ডকে বার্তা পাঠানো হয়। তবে খারাপ আবহাওয়ায় নেভি ও কোস্টগার্ড সদস্যরা দ্রুত আসতে পারবে না বলে জানান। এমন পরিস্থিতিতে ভারতীয় মৎস্যজীবীর প্রাণ বাঁচাতে এগিয়ে আসেন এই জাহাজের নাবিকরাই।
https://www.youtube.com/watch?v=tYkqYi6FG08&feature=youtu.be
প্রায় দু ঘণ্টা চেষ্টার পর দুপুর পৌনে ১টার দিকে দিকে রবীন্দ্রনাথকে জাহাজে তুলতে সক্ষম হন এমভি জাওয়াদের নাবিকরা। মুমূর্ষ রবীন্দ্রনাথকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। দেওয়া হয় পুষ্টিকর খাবার ও প্রয়োজনীয় পোশাক। পরে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। এখন সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
সে দেশের মৎস্যজীবী সংগঠনের মাধ্যমেই এই খবর এসে পৌঁছয় এ পারে। কাকদ্বীপের মৎস্যজীবী সংগঠনের সম্পাদক বিজন দাস রবীন্দ্রনাথের পরিবারের সাথে দেখা করেন। ছবি দেখে চিনতে পারে তাঁর পরিবার। তিনরাত্রির উদ্বেগ এসে মেশে চোখের জলে। এখন বাড়ি থেকে যে রাস্তাটা বেঁকে গিয়ে নদীতে মিশেছে সে দিকেই নজর মা-স্ত্রী-সন্তানের। কবে ঘরে ফিরবে ঘরের মানুষটা।
আরও পড়ুন:
https://www.four.suk.1wp.in/boys-dead-body-floats-from-pok-to-india-army-officials-break-border-protocol-for-handover/