দ্য ওয়াল ব্যুরো, রায়গঞ্জ: রেলের ইঞ্জিনিয়ার বলে পরিচয় দিয়ে, প্রায় লক্ষাধিক টাকার ভুয়ো ডিমান্ড ড্রাফ্ট জমা করে, দু'টি দোকান মালিকের কাছ থেকে একাধিক টিভি হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দিল দুই প্রতারক! রবিবার রায়গঞ্জ শহরের এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকাজুড়ে হইচই পড়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, রায়গঞ্জ শহরের দক্ষিণ বীরনগর ও রাসবিহারী মার্কেট এলাকার বিশ্বজিৎ ফার্নিচার ও সাহা অ্যান্ড কোম্পানি নামে দু'টি প্রতিষ্ঠিত আসবাবপত্র ও বৈদ্যুতিন সামগ্রীর দোকানে দু'জন গ্রাহক আসেন দু'দিন আগে। তাঁরা নিজেদের ডালখোলা স্টেশনে কর্মরত রেল-আধিকারিক বলে পরিচয় দিয়ে প্রথমে একাধিক টিভির কোটেশন দাবি করেন। দুই দোকানের ম্যানেজারই তাঁদের কোটেশন দিয়ে দেন ওই 'আধিকারক'দের।
এর পরে গ্রাহকেরা প্রথমে ব্যাঙ্কের চেক দেওয়ার কথা জানান দাম হিসেবে। কিন্তু দু'টি দোকানের মালিকই চেকে দাম নিতে অস্বীকার করেন। তখন গ্রাহকেরা জানান, তাঁরা ডিমান্ড ড্রাফ্ট জমা করে দেবেন দোকানের নামে। সম্মত হন দুই মালিক। শনিবাপ প্রথমে বিশ্বজিৎ ফার্নিচারে গিয়ে একটি রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্কের ডিমান্ড ড্রাফ্টের রসিদ দেখান ওই গ্রাহকেরা। খানিকক্ষণ পরে সাহা এ্যান্ড কোম্পানিতে গিয়েও একই ছকে জমা দেন ডিমান্ড ড্রাফ্টের রসিদ।
রসিদ দেখিয়ে দু'টি দোকান থেকেই প্রায় ২২টি টিভি নিয়ে তাঁরা চম্পট দেন বলে অভিযোগ। এর পরেই মালিকেরা টের পান, কোনও টাকাই জমা পড়েনি। ওই দু'টি রসিদই ভুয়ো। শুধু তাই নয়, দুই দোকানেই ভারতীয় রেলের রঙিন লোগো ছাপানো বিলও জমা দেন ওই গ্রাহক তথা প্রতারকেরা।
শনিবার রাতে রায়গঞ্জ থানায় অজ্ঞাত পরিচয় দুই গ্রাহকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন দু'টি দোকানের মালিকই। পুলিশের সন্দেহ, বিহার অথবা ঝাড়খণ্ডের কোনও প্রতারণাচক্র ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ জানতে পেরেছে, বাঁকুড়ার কোনও একটি রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্কের কোনও শাখা থেকে সংগ্রহ করা ব্ল্যাঙ্ক ডিমান্ড ড্রাফ্টের উপরে তারিখ ও টাকার অঙ্ক লিখে প্রতারণা করা হয়েছে।
মালিকদের অভিযোগ, তাঁদের দোকান থেকে প্রায় দশ লক্ষ টাকার টিভি নিয়ে গেছে প্রতারকেরা। এদিকে ডালখোলা স্টেশন সূত্রেও জানা গেছে, তাদের কোনও আধিকারিক রেলের তরফে কোনও টেলিভিশন কিনতে যাননি। প্রতারকদের সন্ধানে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।