
শেষ আপডেট: 9 December 2018 18:30
পুলিশ জানিয়েছে, চোলাই অনেকটা বন্ধ হওয়ার পরে সেই জায়গা নিয়েছে দেশি মদের কারবার। সেখানেও মহিলারা যুক্ত হয়ে পড়ছেন বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, স্বামীরাই স্ত্রীদের এই কাজে এগিয়ে দিচ্ছেন। ধরা পড়ার পরে পুলিশকে ওই মহিলারা জানিয়েছেন, অভাবের সংসারে সহজ রোজগারের আশায় তাঁরা মদের কারবারে নেমেছেন।
ঠেক ভাঙতে আসা এলাকারই এক মহিলা স্বরস্বতী মন্ডল বলেছেন, ‘‘বাড়ির পুরুষরা এই সব ঠেক থেকে মদ কিনে খাচ্ছে। আর নেশার চোটে বাড়ির জিনিসপত্র ভাঙচুর, স্ত্রীদের মারধর সবই চলছে। এলাকায অশান্তিও ছড়াচ্ছে এই কারণে{ কেউ কেউ অতিরিক্ত মদ সেবনের ফলে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ’’ এলাকার মানুষের দাবি বিভিন্ন সময় আবগারি দফতর কে জানানো সত্ত্বেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। উপরন্তু দিন দিন আরও ডালপালা মেলছে এই সব দেশি মদের ঠেক। পুলিশের বিরুদ্ধেও উঠেছে অভিযোগের আঙুল। স্থানীয় মদ বিক্রেতা বাসন্তীর দাবি, "আমরা মদ বিক্রির পয়সা একা খাই না। পুলিশকে দিয়েই খাই। ব্যবসা শুরুর পর আবগারি দফতরকে পাঁচ হাজার টাকা ও থানাকে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে মাসোহারা দিই।" তাঁর দাবি, আদিবাসী সমাজে মদ চলবেই, কারণ এখানকার বিয়ের অনুষ্ঠানও মদ ছাড়া হয় না।
দেশি মদের ঠেক ভাঙতে যখন একজোট হয়েছেন মহিলারা, তখন ঠেক বাঁচাতে মরিয়া মদের দোকানের মালিক আদিবাসী মহিলারাও। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের এক এক জনের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে কয়োকশো দেশি মদের বোতল। সাম্প্রতিক সময়ে হাবড়া, গোপালনগর, বাগদা থানার পুলিশ বেশ কয়েকজন মহিলা মদের কারবারিকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের অনুমান, মদের কারবারে জড়িত সন্দেহে মহিলাদের উপরে প্রাথমিক সন্দেহ কম হয়। নজরদারি তুলনায় কম থাকে। সেই সুযোগটাই নেয় কেউ কেউ। এলাকায় ঘুরে ফেরিও করে। শাড়ির আঁচলের তলায় বোতল লুকিয়ে নিয়ে গিয়ে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেয়।