
শেষ আপডেট: 4 January 2020 11:34
এই আশঙ্কা একা পুলকের নয়, বাগনানের বাঁকুড়দহ, চাঁদবেড়িয়া, কাঁটাপুকুর, কামারদহ, বিরামপুর, আটবেলিয়া, নুন্টিয়া, বৈদ্যনাথপুর, আন্টিলা, রবিভাগ, দেউলটি, জলপাই, নাচকের কয়েক হাজার ফুল চাষির ঘুম কেড়েছে পৌষের অকাল বৃষ্টি। অকাল বৃষ্টিতে শুধু যে গোলাপ বাগিচা ক্ষতির মুখে তাই নয়, শীতের রঙবাহারি মরসুমি ফুলেও বাগান নিয়েও দুশ্চিন্তায় ফুলচাষিরা।
বাগনানের বিশ্বজিৎ দণ্ডপাত শীতের মুখে জমিতে চেরি গাছের চারা বসিয়েছিলেন। সবেমাত্র ফুল ফুটতে শুরু করেছিল। এমন সময় নামল বৃষ্টি। বাগানের পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্বজিৎ বলেন, “এই বৃষ্টিতে ফুলে দাগ ধরবে। আর বাজারে পাঠানো যাবে না।” বাঁকুড়দহর ফুলচাষি পুলক ধাড়ার আশঙ্কা, বৃষ্টির জেরে ডালিয়া গাছের গোড়ায় জল জমে গেছে। যে কোনও সময় পচন ধরতে পারে গাছে। তাঁর কথায়, “এখন এক কেজি চেরি ফুল ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, গাঁদা বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে। কিন্তু এই বৃষ্টির জন্য ফুলের পাপড়ি পচে যাবে। সেই ফুল আর বাজারে পাঠানো যাবে না। এই ক্ষতি কী করে সামলে উঠব, সেটাই ভাবনা।”
ফুল চাষের পাশাপাশি অকাল বৃষ্টিতে সবজি চাষেও ক্ষতির সম্ভাবনা দেখছে বাগনানের জোকা, কালিকাপুর, হারপ, রামচন্দ্রপুর, বিরামপুর, বাড়ভগবতীপুর এলাকার চাষিরা। কালিকাপুরের চাষি অসীম পাল এ বার তাঁর আড়াই বিঘে জমিতে ফুলকপি, ১৫ কাঠা জমিতে বেগুন, ৫ কাঠা জমিতে লঙ্কা চাষ করেছেন। তাঁর কথায়, “বৃষ্টি হলে শীতকালীন সবজি চাষে ক্ষতি হবেই। বিশেষত কপিতে পোকা লাগবে। গাছ পচে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।” ক্ষতির আশঙ্কায় কপালে ভাঁজ পড়েছে বাড়ভগবতীপুরের আলু চাষি শেখ রেজাউলেরও।