দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া: মূল দরজার তালা ভেঙে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটলো বিষ্ণুপুরে মল্লরাজাদের তৈরি প্রাচীন মৃন্ময়ী মন্দিরে। প্রতিমার গায়ের সমস্ত স্বর্ণালঙ্কার খোয়া গেছে বলে অভিযোগ। ৯৯৭ খ্রীষ্টাব্দে মল্লরাজ জগদমল্ল প্রতিষ্ঠিত এই মন্দিরে চুরির ঘটনায় বিষ্ণুপুর শহর জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
রাজ পরিবারের সদস্য জ্যোতিপ্রসাদ সিংহ ঠাকুর জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে তাঁর ভাই এবং মন্দিরের পুরোহিতের কাছ থেকে ফোন পেয়ে চুরির বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, হাজার বছরের পুরনো এই মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিষ্ণুপুর শহরের ইতিহাস। তবু এই মন্দিরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের হেলদোল নেই। তাঁর দাবি, ২০১৭ সালে চুরি গিয়েছিল শেষ রাজার মূর্তি। তখনই মৃন্ময়ী মন্দিরের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য প্রশাসনের কাছে আর্জি জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন তাঁরা। আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন মৃন্ময়ী মন্দির ও প্রাচীন রাধেশ্যাম মন্দিরের বিগ্রহ ও তাঁর অলঙ্কারের নিরাপত্তা নিয়ে। আর্কিওলজিক্যাল সোসাইটির অধীনে থাকায় রাধেশ্যাম মন্দিরে নিরাপত্তা রক্ষী রয়েছে। কিন্তু রাজবংশের কুলদেবতা দেবী মৃন্ময়ীর মন্দির অরক্ষিত। সোনার গয়না চুরি করতে এসে চোর মৃন্ময়ী মন্দিরের বিগ্রহেরও ক্ষতি করেছে বলে তাঁর অভিযোগ।
জ্যোতিপ্রসাদবাবু বলেন, দেবী মৃন্ময়ীর গা থেকে সোনার গয়না খুলে নেওয়ার সময় তাঁর সোনার ত্রিনয়নও খুলে নিয়েছে চোরের দল। কত টাকার গয়না চুরি হয়েছে তার হিসেব নিকেশ চলছে।
পুলিশের সন্দেহ, রাত সাড়ে বারোটা থেকে পৌনে একটার মধ্যে মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে চোরেদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ। বিষ্ণুপুরের এসডিপিও প্রিয়ব্রত বক্সি জানান, তদন্ত চলছে। তিনি নিজে আজ ঘটনাস্থলে যাবেন। শহরের ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই মৃন্ময়ী মন্দিরের চুরির কিনারা করতে তাঁরা তৎপর।