দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত প্রায় এক মাস ধরে সারদা কাণ্ডে তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ থেকে শুরু করে আইপিএস অফিসারদের ডেকে পাঠাচ্ছে সিবিআই। কিন্তু, রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন ছিল, শুধু সারদা? যেমনটা ভাবা, অমনি! রোজভ্যালি চিটফান্ড কাণ্ডে তৃণমূল সাংসদ তাপস পালকে নোটিশ পাঠালো এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ইডি সূত্রে খবর, তাপস পালকে আগামী ৪ অক্টোবর ইডির দফতরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইডি সূত্রে বলা হচ্ছে, রোজভ্যালি কাণ্ডে তলব করা হয়েছে বাংলা শাসক দলের আর এক রাঘব বোয়ালকে। তাঁকে সম্ভবত ৫ তারিখ জেরা করতে পারেন ইডি কর্তারা।
রোজভ্যালি কাণ্ডে ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে তৃণমূল লোকসভা সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। তার পর তাঁকে ভুবনেশ্বরের জেল হেফাজতে রাখা হয়েছিল। একই ভাবে রোজভ্যালি কাণ্ডে গ্রেফতার হয়েছিলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ তাপস পাল। তাঁকেও রাখা হয়েছিল ভুবনেশ্বরের জেল হেফাজতে। প্রায় ছ’মাস জেল হেফাজতে থাকার পর শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন সুদীপবাবু। একই ভাবে পরবর্তী কালে জামিনে মুক্তি পান তাপস পাল।
সুদীপ বাবু শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে জামিনে মুক্তি পেলেও পরবর্তীকালে নিয়মিত লোকসভার অধিবেশনে উপস্থিত থেকেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সংসদীয় প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে জম্মু-কাশ্মীরের লে সফরে গিয়েছিলেন। ইদানীং আকছার তাঁকে বিভিন্ন রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে দেখা যায়। দু’দিন আগে তাঁর লোকসভা নির্বাচন কেন্দ্র উত্তর কলকাতার একটি ফুচকা উৎসবে সামনের সারিতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু, এত কিছুর পরেও তাঁর জামিনে মুক্তির ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেনি সিবিআইয়ের আইনজীবীরা। অন্যদিকে, তাপস পালও অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর সম্প্রতি একটি শর্ট ফিল্মে অভিনয় করেছেন। তাঁকে জামিন দেওয়ার নির্দেশও সিবিআই আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে চ্য়ালেঞ্জ করেনি। তবে, সিবিআইয়ের কার্যকলাপ আপাত দৃষ্টিতে থমকে থাকলেও রোজভ্যালি তদন্তে ফের নাড়াচাড়া শুরু করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এখন দেখার, তাপসবাবু ৪ তারিখ ইডি দফতরে হাজিরা দেন কিনা, এবং কোথাকার জল কোথায় গড়ায়। যদিও এ দিন অনেক বার তাপস পালকে ফোন করা হয়েছে। তবে তাঁর ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তৃণমূল সূত্রে বলা হচ্ছে, সারদা-রোজভ্যালি সব তদন্তই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে করা হচ্ছে। উনিশের ভোট আসছে। সেই কারণেই প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে কেন্দ্রের এজেন্সিদের লেলিয়ে দিচ্ছে বিজেপি।