ভুটানের পাহাড় থেকে নেমে আসা জলের সঙ্গে মিশে আসছে ডলোমাইট। আর তাতেই কৃষিজমিতে ছড়াচ্ছে বিষ—শুধু ফসল নয়, মানুষের শরীরেও ফেলছে মারাত্মক প্রভাব।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 15 October 2025 18:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃষ্টি-ধসের ধাক্কায় যখন কার্যত বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গ (North Bengal Devastated), তখন নতুন করে বিপদের ছায়া কৃষিজমিতে। ভুটান পাহাড় থেকে নেমে আসা জলের সঙ্গে মিশে আসছে ডলোমাইট (Dolomite Pollution)। আর তাতেই কৃষিজমিতে ছড়াচ্ছে বিষ—শুধু ফসল নয়, মানুষের শরীরেও ফেলছে মারাত্মক প্রভাব। উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে বিধানসভাতেও শোনা গেল স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া বার্তা।
আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল এদিন বিধানসভায় দেখা করেন স্পিকারের সঙ্গে। অনুরোধ জানান, ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের জন্য প্রতিনিধি দল পাঠানোর। স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “ভুটান থেকে ডলোমাইট ভেসে এসে ব্যাপক ক্ষতি করেছে কৃষিজমিতে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসব। ইন্দো-ভুটান রিভার কমিশনের বিষয়টি ফের তোলা জরুরি।”
তাঁর অভিযোগ, আগেরবার বিজেপির অনীহার কারণেই প্রতিনিধি দল গঠন করা যায়নি। কিন্তু এখন পরিস্থিতি অন্যরকম—এই বিষয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা আগের চেয়েও অনেক বেশি।
আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চা, ধান ও সবজি চাষে ডলোমাইটের পলিস্তর তৈরি করেছে বিপর্যয়। শালকুমার গ্রামে শিসামারা নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবন ঘটে, সেই স্রোতেই ঢুকে পড়ে সাদা বিষ। ফলস্বরূপ বিঘার পর বিঘা জমিতে নষ্ট ফসল। কৃষকদের একাংশ বলছেন—“জল নামছে, কিন্তু মাটি যেন সাদা হয়ে গেছে! গন্ধে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।”
এই ডলোমাইট মূলত ভুটানের খনিজ সম্পদ, যা সিমেন্ট শিল্পে ব্যবহৃত হয়। পাহাড় কেটে উত্তোলনের পর সেগুলি পড়ে থাকে পাদদেশে। অতিবৃষ্টির জল সেই গুঁড়ো ডলোমাইট বয়ে আনে ভারতীয় সীমান্তে। একাধিক চিকিৎসক জানিয়েছেন, ডলোমাইটের সংস্পর্শে দীর্ঘদিন থাকলে চর্মরোগ, ফুসফুসের সমস্যা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। তাঁদের মতে, এখনই ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে আরও ভয়াবহ ছবি অপেক্ষা করছে উত্তরবঙ্গের জন্য।
এদিন পাহাড়ের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে সরাসরি ভুটান ও কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। অভিযোগ, “ভুটান-সহ পড়শি রাজ্যগুলির অতিরিক্ত জলই বাংলার বন্যার কারণ। ওদের জল আমাদের ভাসিয়ে দেবে, অথচ ক্ষতিপূরণ কিছুই নয়! এভাবে আর চলতে পারে না।”
ডিভিসি-র (DVC) দিকেও আঙুল তুলে মমতা বলেন, “২০ বছর ধরে ড্রেজিং করেনি ডিভিসি। বর্ষায় জল ছাড়বে, গ্রীষ্মে জল মিলবে না—এ কেমন নীতি? যদি কিছু করতে না পারে, তাহলে ড্যাম ভেঙে দিন, নদীকে নিজের পথে চলতে দিন!”