নয়ডায় রক্তারক্তি! ধারের টাকা আদায় করতে নিজের পায়েই পেরেক গাঁথল যুবক
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাস স্ট্যান্ডে দু’পা ধরে বসে কাতরাচ্ছেন এক ব্যক্তি। পায়ে শিকল পরানো, আঙুলে পেরেক গাঁথা। রক্ত ঝরছে সমানে। এমন দৃশ্য দেখে ছুটে আসেন স্থানীয়রা। খবর যায় পুলিশে। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি জানান তুলে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার চালিয়েছে অপহর
শেষ আপডেট: 29 October 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাস স্ট্যান্ডে দু’পা ধরে বসে কাতরাচ্ছেন এক ব্যক্তি। পায়ে শিকল পরানো, আঙুলে পেরেক গাঁথা। রক্ত ঝরছে সমানে। এমন দৃশ্য দেখে ছুটে আসেন স্থানীয়রা। খবর যায় পুলিশে। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি জানান তুলে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার চালিয়েছে অপহরণকারীরা। তারপর ছুড়ে ফেলে দিয়েছে রাস্তায়। ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআরও দায়ের করে পুলিশ। তাঁর চিকিৎসাও করানো হয়। এই পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল, কিন্তু গোল বাঁধে কিছুদিন পরে।
৩৫ বছরের ওই ব্যক্তির নাম আমরুদ্দিন। সোমবার ভোর ৬টার সময় নয়ডার দাদরি বাইপাস এলাকার একটি বাস স্ট্যান্ডে আমরুদ্দিনকে বসে গোঙাতে দেখে মন গলে যায় পুলিশের। তদন্তকারী অফিসার জানিয়েছেন মোহন স্বরূপ হাসপাতালে বেশ কিছুদিন রেখে চিকিৎসাও করানো হয় তাঁকে। পকেটে টাকা নেই বলে কান্নাকাটি করায়, গ্যাঁটের কড়ি খসিয়ে তাঁকে সুস্থ করে পুলিশ। কিন্তু ভুল ভাঙে অচিরেই।
নয়ডা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিক বৈভব কৃষ্ণা জানিয়েছেন, প্রথমে ধরতে না পারলেও পরে বোঝা যায় সবটাই ছিল সাজানো। নিজের পায়ে পেরেক গেঁথেই কান্নাকাটি জুড়েছিলেন আমরুদ্দিন। হাতে-পায়ে শিকল পরাতে সাহায্য করেছিল তাঁরই এক শাগরেদ। মঙ্গলবার দু’জনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কেন এমন নাটক? জেরায় আমরুদ্দিন জানিয়েছে, তাঁর গ্রামেরই একজনের থেকে ধারের টাকা আদায় করতে ও তাঁকে শিক্ষা দিতেই এই অপহরণ ও অত্যাচারের নাটক সাজিয়েছিলেন তিনি। আমরুদ্দিন পেশায় কন্ট্রাকটর। মুস্তাক আহমেদ নামে তাঁর গ্রামেরই একজনকে ২ লক্ষ টাকা ধার দিয়েছিলেন গতমাসে। সুদ সমেত টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল মুস্তাকের। সেটা তো সে করেইনি, উপরন্তু আমরুদ্দিনকে দেখলেই রাস্তা বদল করে পালাত। মুস্তাককে শিক্ষা দিতেই ভুয়ো অপহরণের নাটক সাজান তিনি। তারপর নিজের পায়ে পেরেক গেঁথে রক্ত ঝরিয়ে কান্নাকাটি করে গোটা পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করেন। পুলিশের কাছে মুস্তাকের নামে অপহরণের মামলাও দায়ের করেন।
পুলিশ সুপার বৈভব কৃষ্ণা বলেছেন, ‘‘প্রথমে আমরুদ্দিনের অভিনয় দেখে সন্দেহ হয়নি। পরে তাঁর কথার মধ্যে অনেক অসঙ্গতি দেখে খটকা লাগে। জেরায় বেরিয়ে আসে আসল তথ্য। আমরা জানতে পারি আসল অপরাধী আমরুদ্দিন নিজেই। পুলিশকে অন্ধকারে রাখার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
পড়ুন 'দ্য ওয়াল' পুজো ম্যাগাজিন ২০১৯ -এ প্রকাশিত গল্প
https://www.four.suk.1wp.in/pujomagazine2019/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%9a%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%9c/