দ্য ওয়াল ব্যুরো : মাসখানেক আগে নাগরিকত্ব আইনের পক্ষে ভিডিওয় বার্তা দিয়েছিলেন সদগুরু যাগগি বাসুদেব। সেই ভিডিও টুইট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার সদগুরু ফের বললেন, যেভাবে দিনের পর দিন বিক্ষোভ চলছে, তাতে বিদেশে ভারতের ভাবমূর্তির ক্ষতি হবে। দেশে এখন বিদেশি বিনিয়োগ হওয়া খুবই প্রয়োজন। কিন্তু বিক্ষোভ চলতে থাকলে বিনিয়োগ আসবে না।
সুইৎজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামে উপস্থিত সদগুরু বলেন, “যেখানে রাস্তায় বাস জ্বালানো হয়, সেখানে কেউ বিনিয়োগ করতে চায় না।” সদগুরুর মতে, আন্দোলন হলে ভাবমূর্তির ক্ষতি হয় না। কিন্তু যেখানে বাস জ্বালানো হয়, সেখানকার ভাবমূর্তির ক্ষতি হয়। ব্যাপারটা অবশ্য খুব বড় কিছু নয়। কিন্তু দেশের নানা জায়গায় যখন এই ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকে তখন উদ্বিগ্ন হতেই হয়।
পরে তিনি বলেন, “আমাদের দেখতে হবে যাতে সারা বিশ্বের মানুষ যেন না ভাবে যে, ভারতে কেবলই অশান্তি হয়। আমাদের এখন বিপুল পরিমাণে বিদেশি বিনিয়োগ দরকার। কারণ আমাদের দেশের ৪০ কোটি মানুষ এখনও ঠিকমতো খেতে পায় না।” পরে তিনি বলেন, “ভারতীয় হিসাবে আমাদের দায়িত্ব হল সারা বিশ্বের মানুষকে বোঝানো, বিনিয়োগের পক্ষে ভারত নিরাপদ।”
নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে দাভোসেও প্রতিবাদ চলছে। এর মধ্যে গণতন্ত্রের নিরিখে বিশ্বে ১০ ধাপ নেমে গিয়েছে ভারত। প্রতি বছর ১৬৫ টি স্বাধীন দেশ ও দু’টি অঞ্চলে গণতন্ত্রের হাল-হকিকৎ নিয়ে সমীক্ষা করে দি ইকনমিস্ট গ্রুপ। তার ভিত্তিতে তৈরি হয় ‘ডেমোক্র্যাসি ইনডেক্স’, অর্থাৎ গণতন্ত্রের তালিকা। গণতন্ত্রের হাল অনুযায়ী প্রতিটি দেশের র্যাঙ্কিং হয়। সেই তালিকায় এবার ১০ ধাপ নেমে গিয়েছে বিজেপি শাসিত ভারত। এখন তার অবস্থান ৫১ নম্বরে। ২০১৯ সালে ভারতে সবচেয়ে বেশি চর্চা হয়েছে যে দু’টি বিষয় নিয়ে, সেই ৩৭০ ধারা ও এনআরসি-র কথা উল্লেখ করা হয়েছে ইনডেক্সে। বলা হয়েছে, ভারত সরকারের ওই দু’টি পদক্ষেপের ফলে সেদেশে গণতন্ত্রের পরিসর সংকুচিত হয়েছে।
ডেমোক্র্যাসি ইনডেক্স তৈরির সময় যে বিষয়গুলি বিবেচনা করা হয়েছিল, তার মধ্যে আছে ভোটপ্রক্রিয়া, বহুত্ববাদ, সরকারের কাজের পদ্ধতি, রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও নাগরিক অধিকার। এর ওপরে ভিত্তি করে প্রতিটি দেশকে ০ থেকে ১০-এর মধ্যে একটি নম্বর দেওয়া হয়েছে। ভারত ২০১৮ সালে পেয়েছিল ৭.২৩। ২০১৯ সালে পেয়েছে ৬.৯০। এশিয়া ও অস্ট্রেলীয় অঞ্চলে ভারত রয়েছে আট নম্বরে। তিমোর লেস্তে, মালয়েশিয়া ও তাইওয়ানের মতো দেশও আছে তার আগে।
তালিকায় বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে এশিয়ার গণতান্ত্রিক দেশগুলিতে অনেক উথাল পাথাল হয়েছে। সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন এসেছে তাইল্যান্ডে। ২০১৮ সালে তার স্কোর ছিল ১.৬৯। ২০১৯ সালে হয়েছে ৬.৩২। গণতান্ত্রিক দেশগুলির তালিকায় সে উঠে এসেছে ৩৮ ধাপ। সিঙ্গাপুরে গত বছর ‘ফেক নিউজ’-এর বিরুদ্ধে আইন হয়েছে। এর ফলে তালিকায় নেমে গিয়েছে সেই দেশ।
ভারত সম্পর্কে বলা হয়েছে, “সেদেশে সংবিধানের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ধারায় জম্মু-কাশ্মীরকে স্বশাসন দেওয়া হয়েছিল। সরকার কাশ্মীরের সেই অধিকার কেড়ে নিয়েছে।” এখানে ৩৭০ ধারা ও ৩৫ এ ধারা লোপ করার কথা বলা হয়েছে। ডেমোক্র্যাসি ইনডেক্সের বক্তব্য, সংবিধানের ওই দু’টি ধারা লোপ করার পাশাপাশি ভারতের সংসদে জম্মু-কাশ্মীর পুনর্গঠন আইন পাশ করানো হয়েছে। এর ফলে জম্মু-কাশ্মীর এখন আর রাজ্য নেই। তা দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত হয়েছে।