দ্য ওয়াল ব্যুরো : ছত্তিসগড়ের রাজধানী রায়পুরের অদূরে রাস্তার ধারে দাঁড় করানো আছে একটি ডাম্পার। ১০ চাকার ডাম্পারের মধ্যে বসে আছেন কয়েকজন। তাঁদের দূর থেকে দেখা যায়। কয়েকজন ডাম্পার থেকে নেমে জলের খোঁজ করছেন।
ডাম্পারের মধ্যে যাঁরা বসে আছেন, তাঁরা পরিযায়ী শ্রমিক। তেলঙ্গনা থেকে আসছেন। ৮০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছেন ডাম্পারে চড়ে। তাঁদের একজন বলেছেন, “আমরা প্রায় দু’ঘণ্টা রোদে বসে আছি। পথে খাবার জোটেনি। জলও পাইনি।” পরিযায়ীদের সঙ্গে তাঁদের পরিবারের লোকজন আছেন। কয়েকজন মহিলাকে দেখা যায়, শাড়ির আঁচল দিয়ে শিশুদের আড়াল করছেন।
এক শ্রমিক জানান, তাঁরা হায়দরাবাদ থেকে আসছেন। চারদিন সময় লেগেছে।
ট্রাকের ওপরে কোনও আচ্ছাদন নেই। সাধারণত ট্রাকের ওপরটা প্লাস্টিকের শিটে ঢাকা থাকে। ওই ট্রাকে তাও নেই। এক শ্রমিক বলেন, “ছত্তিসগড় সরকার আমাদের কোনও সাহায্য করেনি। ট্রাকে প্রায় ১০০ জন ছিল। সরকার কেন সাহায্য করেনি জানি না।” শ্রমিকরা ছত্তিসগড় সরকারের কাছে খাবার ও জল চেয়েছেন। কিন্তু এখনও কিছু পাওয়া যায়নি। তাঁদের শিশুরাও দীর্ঘক্ষণ কিছু খায়নি।
২৫ মার্চ থেকে দেশে চালু হয়েছে লকডাউন। দেশের নানা প্রান্তে আটকে পড়েছেন হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক। সরকার প্রথমে তাঁদের বলেছিল, যেখানে আছেন, সেখানেই থাকুন। কিন্তু হাজার হাজার শ্রমিক হেঁটে বা সাইকেলে চড়ে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করেন। পরে সরকার তাঁদের ফেরার জন্য স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করে। বেশিরভাগ পরিযায়ী শ্রমিক বলেছেন, তাঁরা খাবার এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় পণ্য পাচ্ছিলেন না। তাই নিজেদের গ্রামে ফিরতে চেয়েছিলেন।
শুক্রবার অবধি ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫৯ হাজার ৬৬২ জন, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৩২০ জন। মৃতের সংখ্যা ১৯৮১।