
শেষ আপডেট: 22 May 2023 06:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার দিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের (Mallikarjun Kharge) সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার (Nitish Kharge meeting on Monday)। তাঁর সঙ্গে থাকবেন উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদবও (Tejaswi jadav)।
একমাস আগেই খাড়্গের দিল্লির বাসভবনে নীতীশ-তেজস্বী (Nitish Kumar) বৈঠক করেছিলেন। তারপর কর্নাটকের বিধানসভা নির্বাচন পর্ব শেষে সোমবার ফের তিন নেতার বৈঠক হতে চলেছে। আগেরবারের মতো রাহুল গান্ধী সোমবারের বৈঠকে থাকবেন কিনা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে জাতীয় রাজনীতি নিয়ে কৌতুহলের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে সোমবারের এই বৈঠক।
মঙ্গলবার কলকাতায় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক নিয়েও বিজেপি-অবিজেপি সব মহলেই কৌতুহল তৈরি হয়েছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী আপ সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রের চলতি সংঘাত নিয়ে আলোচনা করতে আসছেন নাকি জাতীয় রাজনীতিই প্রধান আলোচ্য সে বিষয়টি কোনও পক্ষই স্পষ্ট করেনি। দিল্লিতে রাজ্য সরকারের সঙ্গে উপরাজ্যপালের ক্ষমতার লড়াই নয়া মাত্রা পেয়েছে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তে। সুপ্রিম কোর্ট উপরাজ্যপালের ক্ষমতা ছাঁটলেও অর্ডিন্যান্স জারি করে তা খারিজ করে দিয়েছে মোদী সরকার।

দু’জনেই কলকাতা ও লখনউ গিয়ে কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অখিলেশ যাদবের সঙ্গে। মুম্বইয়ে শরদ পাওয়ার, উদ্ধব ঠাকরেদের সঙ্গেও কথা বলেন তাঁরা। নীতীশ ভুবনেশ্বর ও দিল্লি গিয়ে বৈঠক করেন দুই মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গেও।
সূত্রের খবর, বিরোধী জোট গড়া নিয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর ফরমুলাতেই সায় দিয়েছেন বেশিরভাগ নেতা। ব্যতিক্রম নবীন। তিনি কোনও শিবিরে নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, নীতীশের দল জেডিইউ-ও মমতার ফরমুলাকেই যথাযথ মনে করে। দলের নেতা কেসি ত্যাগী নবান্নে মমতা-নীতীশ বৈঠকের পর পরই জানিয়েছিলেন তাঁরাও মনে করেন, একের বিরুদ্ধে এক প্রার্থী নিশ্চিত করতে হলে যে দল বিজেপির বিরুদ্ধে যেখানে শক্তিশালী তাদের পাশে বাকিদের থাকতে হবে।
নীতীশের দল তাঁর ফরমুলার কথা প্রকাশ্যে আনার পর মমতাও প্রকাশ্যে কংগ্রেসকে এই বার্তা দিয়েছেন। তাঁর সাফ কথা কংগ্রেস দু’শো আসনে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করুক। সেখানে আঞ্চলিক দলগুলি কংগ্রেসের পাশে থাকবে। অন্যত্র একই ভূমিকা পালন করতে হবে কংগ্রেসকে।

অধীর চৌধুরী, প্রদীপ ভট্টাচার্যের মতো রাজ্যের নেতারা মমতার প্রস্তাব প্রত্যাখান করলেও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব সরাসরি মন্তব্য করেনি। তবে এই প্রস্তাবে কংগ্রেসের আপত্তি আছে। সোমবারের বৈঠকে খাড়্গের সঙ্গে আঞ্চলিক দলগুলির বক্তব্য তুলে ধরে কংগ্রেসের অভিমত জানতে চাইবেন নীতীশ। তবে সোমবারের বৈঠকেই সব কিছু চূড়ান্ত হয়ে যাবে, এমনটা কেউই মনে করছে না।
কংগ্রেস সূত্রের খবর, মমতার ফরমুলা নিয়ে হাত শিবিরে দ্বিমত আছে। একদল মনে করছে, দু’শো আসনে সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করলে দল একশোর বেশি আসনে জয়লাভ করতে পারবে যা কোনও আঞ্চলিক দলের পক্ষে পাওয়া সম্ভব নয়। ফলে ভোটের পর সরকার গড়ার সুযোগ এলে কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রীর পদ নিয়ে জোরালো অবস্থানে থাকবে। অন্যদিকে, আর এক দলের বক্তব্য, নির্বাচন রাজনৈতিক লড়াই। বেশি আসনে লড়াইয়ের অর্থ রাজনৈতিক বক্তব্য মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়া। তাছাড়া দলের ভোট বৃদ্ধির বিষয়টিও মাথায় রাখতে হচ্ছে। এখন দেখার সোমবারের বৈঠকের পরিণতি কী দাঁড়ায়।
ত্রিপুরায় কি বড় কিছু হতে চলেছে? বিপ্লবের ‘বহিরাগত’ বিস্ফোরণের পরেই দিল্লিতে তলব