লাইভ বাজেট ২০২৩: প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বরাদ্দে বড়সড় বৃদ্ধি
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী বছর লোকসভা ভোট। তার আগে আজ বুধবার শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট (Budget 2023) পেশ করছেন নরেন্দ্র মোদী সরকারের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন (Nirmala Sitharaman)। এক নজরে দেখে নিন বাজেটে (Union Budget 2023) কী ঘোষণা করছেন কেন্দ্র
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী বছর লোকসভা ভোট। তার আগে আজ বুধবার শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট (Budget 2023) পেশ করছেন নরেন্দ্র মোদী সরকারের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন (Nirmala Sitharaman)। এক নজরে দেখে নিন বাজেটে (Union Budget 2023) কী ঘোষণা করছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী (budget 2023 date and time)।
গোটা বিশ্ব ভারতের অর্থনীতিকে উজ্জ্বল নক্ষত্র বলে মনে করছে।
কোভিডের সময়ে আমরা সুনিশ্চিত করেছিলাম কেউ যাতে অভুক্ত না থাকে। খাদ্য সুরক্ষা সুনিশ্চিত রাখতে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে শুরু করে গোটা বছর অন্ত্যোদয় ও গরিব পরিবারগুলিকে বিনামূল্য খাদ্য সরবরাহ করবে সরকার। এ জন্য যে ২ লক্ষ কোটি টাকা খরচ হবে তা একাই বহন করবে কেন্দ্রের সরকার।
এখন অমৃতকাল চলছে। আমাদের লক্ষ্য হল, প্রযুক্তি ও জ্ঞাননির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা। এবং তা করতে গিয়ে 'সবকা সাথ সবকা প্রয়াস' মন্ত্র নিয়ে চলবে সরকার।
সার্বিক ভাবে সরকারের ইকোনমিক অ্যাজেন্ডার মূল স্তম্ভ হতে চলেছে তিনটি- ১) নাগরিক বিশেষ করে যুবাদের জন্য জন্য সুযোগ তৈরি করা। ২) বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং ৩) মজবুত ম্যাক্রো ইকোনমিক ব্যবস্থা।
বাজেটে ৭টি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। যাকে আমরা বলছি সপ্ত ঋষি। সেই সাতটি বিষয় হল, সবাইকে নিয়ে উন্নয়ন, প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া, পরিকাঠামো ও বিনিয়োগ, সম্ভাবনার বিকাশ, সবুজকে আরও বাড়িয়ে তোলা, যুব শক্তি এবং কৃষিক্ষেত্রে ডিজিটাল পরিকাঠামো গড়া।
২০ হাজার কোটি টাকা কৃষি ঋণ দেওয়ার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।
মৎস্যজীবীদের কল্যাণের জন্য ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করবে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী পিবিটিজি শুরু করা হবে। যাতে জনজাতি এলাকায় পানীয় জল, আবাস, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়ন করা যায়। এ জন্য সরকার ৩ বছরে ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করবে।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বরাদ্দ ৬৬ শতাংশ বাড়িয়ে ৭৯ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে।
মূলধন খাতে বিনিয়োগ ৩৩ শতাংশ বাড়িয়ে ১০ লক্ষ কোটি টাকা করা হবে। যা হল জাতীয় গড় উৎপাদনের ৩ শতাংশ।
৫০টি নতুন বিমানবন্দর ও হেলিপ্যাড গড়ে তোলা হবে আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য।
ম্যানহোল থেকে মেশিন হোল মোড—সব শহরের পয়ঃপ্রণালী উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করবে সরকার।
মিশন কর্মযোগী—সরকারি কর্মচারী ও আমলাদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে সরকার।
পরিবহণ পরিকাঠামো উন্নয়নের ১০০টি প্রকল্প খাতে ৭৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করবে সরকার।
যে কোনও ব্যবসার অভিন্ন পরিচয়পত্র হবে প্যান কার্ড তথা প্যান নম্বর।
গোবর্ধন স্কিম-- শহর এলাকায় বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট তৈরি করা হবে। এজন্য বরাদ্দ হবে ১০ হাজার কোটি টাকা। বিকল্প শক্তির ব্যবহার বাড়াতে পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে, যা সামগ্রিকভাবে পরিবেশবান্ধব।
১ কোটি কৃষককে প্রাকৃতিক চাষে উৎসাহিত করা হবে। সেজন্য তাদের জৈব সার জোগানোর ব্যবস্থা করা হবে।
মিস্টি-- ম্যানগ্রোভ ইনিশিয়েটিভ ফর শোরলাইন ট্রান্সফর্ম প্রকল্প শুরু হবে।
সব বিষয়ে শিশুদের বই পাঠের ব্যবস্থা করার জন্য ন্যাশনাল ডিজিটাল লাইব্রেরি তৈরি করা হবে।
কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পুরনো গাড়ি বাতিল করে নতুন গাড়ি কেনার জন্য আর্থিক সাহায্য।
প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনার আওতায় ‘অন জব ট্রেনিং’, ‘ইন্ডাস্ট্রি পার্টনারশিপের’ ব্যবস্থা করা। কোডিং, রোবোটিক্স, মেটাট্রনিক্স, আর্টিফিশিয়াল ইন্টালিজেন্স নিয়ে পড়াশুনা ও প্রশিক্ষণের গোটা দেশে ৩০ স্কিল ইন্ডিয়া সেন্টার গড়ে তোলা হবে।
ইউনিটি মল— রাজ্যগুলিকে তাদের প্রধান শহর বা অর্থনৈতিক কেন্দ্রে ইউনিটি মল তৈরির জন্য আর্থিক সাহায্য করা হবে। যাতে রাজ্যগুলি তাদের রাজ্যে উৎপাদিত জিআই প্রোডাক্ট বা হস্তশিল্পের প্রদর্শন ও বিপণন করতে পারে।
মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য সুনিশ্চিত ঋণের ব্যবস্থা। এ জন্য ৯ হাজার কোটি টাকার তহবিল গড়বে সরকার।
স্বাধীনতার অমৃতবর্ষের জন্য 'মহিলা সম্মান বচত পত্র' বা মহিলা সম্মান সেভিংস সার্টিফিকেট শুরু হচ্ছে। ২ বছরের জন্য তথা ২০২৫ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত এই সার্টিফিকেট কোনও মহিলা বা মেয়ের নামে কেনা যাবে। ৭ শতাংশ সুদ দেওয়া হবে এই খাতে।
৫টি বড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে চলেছি যাতে মধ্যবিত্ত শ্রেণির বড় উপকার হবে।
যারা ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করেন তাদের এখন কোনও কর দিতে হয় না। সেই ধাপ আরও ২ লক্ষ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করছি। অর্থাৎ ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় হলে কোনও আয়কর দিতে হবে না।
বর্তমানে করের হারের ৬টি হার বা স্ল্যাব রয়েছে। তা কমিয়ে ৫ টি করার প্রস্তাব করছি।
নতুন কর ব্যবস্থায় ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত করযোগ্য আয়ে করের হার হবে শূন্য শতাংশ (০ %)।
৩ থেকে ৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত করযোগ্য আয়ে আয়কর দিতে হবে ৫ শতাংশ হারে।
৬ থেকে ৯ লক্ষ টাকা পর্যন্ত করযোগ্য আয়ে আয়কর দিতে হবে ১০ শতাংশ হারে।
৯ থেকে ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত করযোগ্য আয়ে আয়কর দিতে হবে ১৫ শতাংশ হারে।
১২ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত করযোগ্য আয়ে আয়কর দিতে হবে ২০ শতাংশ হারে।
১৫ লক্ষ টাকার বেশি করযোগ্য আয়ে আয়কর দিতে হবে ৩০ শতাংশ হারে।
অর্থাৎ কারও বার্ষিক আয় ৯ লক্ষ টাকা হলে নতুন কর ব্যবস্থায় তাঁকে ৪৫ হাজার টাকা আয়কর দিতে হবে। বর্তমানে তাঁকে ৬০ হাজার টাকা কর দিতে হয়। মানে তাঁর ১৫ হাজার টাকা সাশ্রয় হবে।
বর্তমানে কারও আয় ১৫ লক্ষ টাকা হলে নতুন ব্যবস্থায় তাঁকে ১.৫ লক্ষ টাকা কর দিতে হবে। বর্তমান ব্যবস্থায় তাঁকে কর দিতে হয় ১ লক্ষ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা।