ফাঁসি রদের আবেদন করতেই দিচ্ছে না, জেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেই অভিযোগ আসামিদের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফাঁসির রদের আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে দেরি করছে জেল কর্তৃপক্ষ। কিউরেটিভ পিটিশন বা রায় সংশোধনের আর্জি জানানোর প্রক্রিয়াতেও বিলম্ব করছে। প্রাণভিক্ষার আর্জি জানানোর সব রাস্তাই নাকি কৌশলে বন্ধ করে দিতে চাইছে তিহাড় জ
শেষ আপডেট: 23 January 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফাঁসির রদের আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে দেরি করছে জেল কর্তৃপক্ষ। কিউরেটিভ পিটিশন বা রায় সংশোধনের আর্জি জানানোর প্রক্রিয়াতেও বিলম্ব করছে। প্রাণভিক্ষার আর্জি জানানোর সব রাস্তাই নাকি কৌশলে বন্ধ করে দিতে চাইছে তিহাড় জেল কর্তৃপক্ষ। এমনই অভিযোগ আনল নির্ভয়ার চার দোষী ফাঁসির আসামি মুকেশ সিং, পবন কুমার গুপ্ত, অক্ষয় ঠাকুর ও বিনয় শর্মা।
চার দোষীর আইনজীবী এপি সিং শুক্রবার পাতিয়ালা হাউস কোর্টে পিটিশন দাখিল করে বলেন, জেল কর্তৃপক্ষরা কোনও সুবিধাই নাকি দিতে চাইছেন না আসামিদের। আইনজীবীর অভিযোগ, পবন কুমার, বিনয় ও অক্ষয় ঠাকুরের ফাঁসি রদের আবেদন জানানোর প্রয়োজনীয় নথিপত্রও তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়নি। ফাঁসির রদের আর্জি জানিয়ে পিটিশন দাখিল করত আর এক দোষী মুকেশ সিং। সেটাও জেল কর্তৃপক্ষের বিলম্বের কারণেই সম্ভব হয়নি।
তিহাড় জেলের দু’নম্বর সেলে রাখা হয়েছে মুকেশ, পবন ও অক্ষয়কে। তিন নম্বর সেলে রয়েছে বিনয় শর্মা। চার দোষীকেই আলাদা আলাদা সেলে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেল কর্তৃপক্ষ। পাঁচ জন কারারক্ষী ওই সেলের উপরে নজর রাখছেন। নির্দিষ্ট সময় অন্তর তাঁদের বদলে দেওয়া হচ্ছে। রয়েছে বেশ কয়েকটি সিসি ক্যামেরাও।
জেল কর্তৃপক্ষের দাবি, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ফাঁসির দিন ঠিক হওয়ার পর থেকেই মুখে কুলুপ এঁটেছে আসামিরা। তারা নাকি পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে দেখাও করতে চায়নি। ঠিকমতো খাবারও খাচ্ছে না তারা। এমনকি শেষ ইচ্ছার প্রশ্নেও তারা নীরব। ফাঁসির পরে জেল কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত তাদের জিনিসপত্র কার হাতে তুলে দেওয়া হবে সেই নিয়েও কিছু বলতে চায়নি তারা। জেল কর্তৃপক্ষের দাবি, এই ব্যাপারে কিছু আইনী কাগজপত্রে সই করতে হয়। কিন্তু আসামিরা নাকি সেটাও করতে রাজি হচ্ছে না। উল্টে কীভাবে বার বার প্রাণভিক্ষার আর্জি জানিয়ে ফাঁসির দিন পিছিয়ে দেওয়া যায়, সেই আলোচনাতেই মত্ত তারা।
এদিকে ফাঁসির প্রস্তুতিও জোরকদমে চলছে তিহাড়ে। কিছুদিন আগেই বস্তা ঝুলিয়ে হয়ে গেছে ডামি মহড়া। আসামিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে নিয়মিত। তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখছেন জেলের ডাক্তাররা। জেল সূত্রে খবর, ফাঁসির দিন যত এগিয়ে আসছে উৎকণ্ঠা ততই বাড়ছে আসামিদের। কখনও শেষবার প্রাণভিক্ষার আর্জি জানানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠছে তারা, আবার কখনও দোষ চাপাচ্ছে জেল কর্তৃপক্ষের ঘাড়েই।
মঙ্গলবারই সুপ্রিম কোর্টে খারিজ হয়ে যায় দুই অপরাধী মুকেশ কুমারের ও বিনয় শর্মার দায়ের করা কিউরেটিভ পিটিশন। এর পরেই ফের রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করে মুকেশ। ফাঁসিতে ঝোলানোর আগে সম্ভবত এই শেষবারের মত প্রাণভিক্ষার আর্জি জানাতে পেরেছিল সে। সেই আর্জি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। আবেদন পাঠানোর কয়েক ঘণ্টা মধ্যেই তা খারিজ করেন দেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।