নির্ভয়া: দণ্ডিতদের ফাঁসির দিন ঘোষণা আজ দিল্লি হাইকোর্টে, অধীর অপেক্ষায় দেশ
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এখনও অজানাই থেকে গেছে নির্ভয়ার দণ্ডিতদের ফাঁসির দিনক্ষণ। রবিবার বেলায় দিল্লি হাইকোর্টে জরুরি ভিত্তিতে শুনানি হলেও ফাঁসির তারিখ ঘোষণা করেনি আদালত। আজ, বুধবারই সেই দিন। বেলা আড়াইটে নাগাদ রায় শোনাবে আদালত। সব ঠিক থাকলে ফাঁসির
শেষ আপডেট: 4 February 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এখনও অজানাই থেকে গেছে নির্ভয়ার দণ্ডিতদের ফাঁসির দিনক্ষণ। রবিবার বেলায় দিল্লি হাইকোর্টে জরুরি ভিত্তিতে শুনানি হলেও ফাঁসির তারিখ ঘোষণা করেনি আদালত। আজ, বুধবারই সেই দিন। বেলা আড়াইটে নাগাদ রায় শোনাবে আদালত। সব ঠিক থাকলে ফাঁসির তারিখও ঘোষণা হবে আজই। অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে দেশ।
গত শনিবার ভোর ৬টা নাগাদ তিহাড় জেলের দু’নম্বর সেলে চারজনকে একসঙ্গে ফাঁসিতে ঝোলাবার কথা ছিল। কিন্তু, চার দোষীর একজন অক্ষয় ঠাকুর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করে বসায়, নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই ফাঁসি স্থগিত হয়ে যায়। বারবার আইনের ফাঁকে বিলম্ব করে ফাঁসির সাজা স্থগিত হওয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে আপিল করে কেন্দ্র। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে সওয়াল করেন, দণ্ডিতরা ইচ্ছাকৃতভাবেই ফাঁসির দিন পিছিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আইনি পথকে মাধ্যম করে বাঁচার চেষ্টা চালাচ্ছে। চারজনই ভারতের আইনব্যবস্থা এবং দেশের ধৈর্য্য নিয়ে খেলা করছে।
তুষার মেহতা আরও বলেন, যেহেতু সুপ্রিম কোর্ট ফাঁসির রায় দিয়েছে, তাই প্রয়োজনে তাদের আলাদা আলাদা দিনেই ফাঁসি দেওয়া যেতে পারে। যদি আইনি সমস্যায় চারজনের একসঙ্গে ফাঁসি না হয়, তবে যাদের সামনে ফাঁসি রদের আরও কোনও আইনি পথ খোলা নেই, তাদের মৃত্যুদণ্ডই আগে কার্যকর করা হোক।
২২ জানুয়ারি ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল চার জনের। কিন্তু চার অপরাধী বারবার আলাদা আলাদা করে একাধিক বার প্রাণভিক্ষার আবেদন করায় পিছিয়ে যায় সেই ফাঁসির তারিখ। নতুন ফাঁসির দিন ১ ফেব্রুয়ারি ঠিক হলেও, কয়েক ঘণ্টা আগে ফের স্থগিত হয় ফাঁসি। তার কারণ শুক্রবার সন্ধেয় তিন দণ্ডিতের আইনজীবী এপি সিং দিল্লির পাটিয়ালা আদালতে আপিল করেন, ১ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ শনিবার, চার জনের ফাঁসির উপরে স্থগিতাদেশ জারি করা হোক। তার জন্য তিনি যুক্তি সাজান, ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত বিনয় শর্মার প্রাণভিক্ষার আর্জি জানিয়েছে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে। যদিও সেই আর্জি খারিজ হয়ে গেছে। তবে তারপরেই মামলার অন্যতম দণ্ডিত অক্ষয় ঠাকুর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার জন্য আবেদন জানায়। দণ্ডিতদের আইনজীবীর যুক্তি, মুকেশ সিংয়ের কাছে আর কোনও আইনি পথ খোলা না থাকলেও পবন গুপ্তের সামনে এখনও ফাঁসির আদেশকে চ্যালেঞ্জ করার আইনি পথ খোলা আছে।
তাই শনিবার শুধু মুকেশের ফাঁসি হওয়া সম্ভব নয়। এই যুক্তিতে চার জনেরই ফাঁসি পিছিয়ে দেওয়া হোক বলে দাবি জানান তিনি। অপরাধীদের আইনজীবীর সেই আর্জি শুনে তিহাড় জেল কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট তলব করেন পাটিয়ালা আদালতের বিচারক ধর্মেন্দ্র রানা। সেই রিপোর্ট পাওয়ার পরে ফাঁসি স্থগিত করার রায় দেন তিনি।
ফাঁসির দিন নিয়ে দরাদরির মাঝেই চার আসামিকে ফাঁসিকাঠে ঝোলাতে তিহাড়ে এসে পৌঁছেছেন পবন জল্লাদ। আসামিদের সমওজনের বালি-পাথর বস্তায় ভরে ফাঁসির ডামি মহড়াও হয়ে গেছে তিহাড়ে। ফাঁসির দিন গুনছে জেল কর্তৃপক্ষও।
বস্তুত, ফাঁসির চার আসামির মধ্যে মুকেশ সিংয়ের প্রাণভিক্ষার আর্জিও রাষ্ট্রপতি খারিজ করে দিয়েছেন। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গেলে, বিচারপতি আর ভানুমতীর বেঞ্চ সেটাও খারিজ করে দেয়। মুকেশের সামনে কার্যত আর কোনও রাস্তা খোলা নেই। অক্ষয় ঠাকুর রিভিউ পিটিশন খারিজ হয়েছে। কিউরেটিভ পিটিশন জমা পড়লেও তা খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত। রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছে সে। বিনয়ের রিভিউ ও কিউরেটিভ পিটিশন খারিজ। তার নামে প্রাণভিক্ষার আর্জি জমা পড়েছে। কিন্তু সেই আর্জি তার নয় বলে বিনয় রাষ্ট্রপতিকে চিঠি লিখেছে।