দ্য ওয়াল ব্যুরো: অক্ষয় ঠাকুরের পর এবার পবন গুপ্ত। ফের সাজা মকুবের আর্জি জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে পিটিশন দাখিল করল পবনের আইনজীবী এপি সিং। নির্ভয়ার দোষীর দাবি, অপরাধের সময় সে নাবালক ছিল। কাজেই জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্টে যেন বিচার করা হয়। এই মামলার শুনানি ২৪ জানুয়ারি করা হবে বলে জানিয়েছে আদালত।
গতকাল, বুধবার সুপ্রিম কোর্টে অক্ষয় ঠাকুরের ফাঁসির সাজা রদের আর্জি খারিজ হয়ে যায়। শীর্ষ আদালতের বিচারপতি অশোক ভূষণ, বিচারপতি এএস বোপান্না এবং বিচারপতি আর ভানুমতীর বেঞ্চ জানিয়ে জানিয়ে দেয়, নির্ভয়া মামলায় ২০১৭ সালের রায়ে কোনও বদল করা হবে না। অর্থাৎ দোষীদের মৃত্যুদণ্ডের সাজাই বহাল থাকবে। এই বিষয়ে আলাদা করে আর ভাবনা-চিন্তার কিছু নেই।
সুপ্রিম কোর্টে অক্ষয় ঠাকুরের রিভিউ পিটিশন খারিজ হয়ে গেলে দিল্লি হাইকোর্টে সাজা মকুবের আর্জি জানিয়ে নতুন করে পিটিশন দাখিল করে পবন গুপ্ত। তার আইনজাবী এপি সিং বলেছেন, ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বরের হিসেবে পবন নাবালক ছিল। কাজেই তাকে যেন জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্টের আওতায় ফেলা হয়। একমাস পিছিয়ে এই মামলার শুনানি ২৪ জানুয়ারি করা হবে বলে জানিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট।
এদিকে শুনানি একমাস পিছিয়ে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছেন নির্ভয়ার মা আশাদেবী। তিনি বলেছেন, অপরাধীরা ইচ্ছাকৃতভাবে সময় নষ্ট করছে। অক্ষয় ঠাকুরের প্রাণভিক্ষার আর্জি খারিজ হয়ে গেলে ফের পবন গুপ্ত নতুন যুক্তি সাজিয়ে রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছে। আশাদেবীর কথায়, “শুনানি ফের পরের বছর অবধি মুলতুবি রইল। আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে আমাদের। দোষীরা নিজেদের অধিকারের দাবি জানিয়ে যাচ্ছে, আমাদের কি কোনও অধিকার নেই? ” কবে বিচার পাব আমরা? প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

গত ১৬ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছিলেন অক্ষয় ঠাকুরের আইনজীবী এপি সিং। গতকাল সেই রিভিউ পিটিশন খারিজ হয়ে গেলে আদালত থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, ঘটনার দিন তাঁর মক্কেল বিহারের ঔরঙ্গাবাদে নিজের বাড়িতে ছিলেন। তাঁর কাছে বাসের টিকিট ও অন্যান্য প্রমাণ রয়েছে। চাইলে সেগুলো আদালতে জমা করা যাবে। তাঁর আরও দাবি, ইচ্ছাকৃত ফাঁসানো হচ্ছে অক্ষয় ঠাকুরকে। রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন জানানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এই মামলায় আর এক দোষী রাম সিং জেলের ভিতরে আত্মহত্যা করেনি, বরং তাকে খুন করা হতে পারে বলেও দাবি তুলেছেন তিনি।
এদিনও আদালত থেকে বেরিয়ে এপি সিং বলেন, তাঁর মক্কেল পবন গুপ্ত ঘটনার সময় নাবালক ছিল। সুপ্রিম কোর্টে পবনের সাজা মকুবের আর্জি আগেই খারিজ হয়ে গিয়েছিল। এবার দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে ফাঁসির সাজা রদের আর্জি জানিয়েছে সে।