নিপা নিয়ে উদ্বেগ কমেছিল খুব বেশিদিন হয়নি। এরমধ্যেই ফের আতঙ্ক ধরাল এই ভাইরাল। রাজ্যে প্রথম নিপা আক্রান্তের মৃত্যু। কয়েকদিন আগেই সংক্রমণ নিয়ে রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল বলে খবর।

নিপা আক্রান্তের মৃত্যু
শেষ আপডেট: 12 February 2026 17:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিপা নিয়ে উদ্বেগ কমেছিল খুব বেশিদিন হয়নি। এরমধ্যেই ফের আতঙ্ক ধরাল এই ভাইরাস। রাজ্যে প্রথম নিপা আক্রান্তের মৃত্যু (First Nipah Infected death in Bengal)। বারাসতের হাসপাতালে গত দেড় মাস ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন মহিলা নার্স। বৃহস্পতিবার সকালেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর হাসপাতাল সূত্রে।
গত ৪ জানুয়ারি থেকে অসুস্থ ছিলেন ওই মহিলা নার্স। এরপর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েকদিনের মধ্যেই অবস্থার অবনতি হয়ে কোমায় চলে যান তিনি। দীর্ঘদিন ভেন্টিলেশনে রেখেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল। গত মাসের শেষেই শরীরের কিছুটা উন্নতি হওয়ায় তাঁকে ভেন্টিলেশনের বাইরে আনা হয়েছিল। যদিও সেইসময়েই চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, মহিলা নার্স এখনও সঙ্কটমুক্ত নন।
বারাসতের হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, মহিলা নার্সের ডায়রিয়া হয়েছিল, তাঁর জ্বরেও ভুগছিলেন। সেই অবস্থাতেই প্রথমে কাটোয়া, তারপর বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ এবং শেষে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়। রক্তের নমুনা পরীক্ষায় জানা যায় তিনি নিপা আক্রান্ত (Nipah Virus)।
১৪ জানুয়ারি থেকে বারাসতের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ওই নার্স। প্রসঙ্গত, এখানেই কর্মরত ছিলেন তিনি। গত ৩৯ দিন ধরে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, নিপায় আক্রান্ত হওয়ার কারণে নার্সের শরীরে যে ক্ষতি হয়েছিল, তা সামলে উঠতে পারেননি, যার কারণেই এই মৃত্যু (First Nipah Infected death in Bengal) বলে অনুমান।
এই মহিলা নার্সের সঙ্গেই আরও একজন পুরুষ নার্স নিপা আক্রান্ত (Nipah Infected Nurse) হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে তাঁকে কয়েকদিন আগেই হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতেই নিপা ভাইরাসের (Nipah Virus in West Bengal) আতঙ্ক ছড়িয়েছিল বাংলায়। এই দুই নার্সের সংক্রমিত হওয়ার খবর সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য দফতর (Health Department)। নিপা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়। কয়েকদিনের মধ্যেই মহিলা নার্সের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং তিনি কোমায় চলে যান। যাঁরা এই দু'জনের সংস্পর্শে এসেছিলেন, এমন ৮২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছিল। যদিও তাঁদের কারও শরীরের ভাইরাসের উপস্থিতি মেলেনি।
রাজ্যের বন বিভাগ ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি মিলিয়ে কলকাতার বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ৯টি বাদুড় ধরা হয়েছিল। প্রতিটি বাদুড়ের শরীর থেকে তিন ধরনের সোয়াব নিয়ে আরটিপিসিআর পরীক্ষা (Bats RT-PCR Test Negative) করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, সব বাদুড়ই নিপা ভাইরাসের (Nipah Virus) জন্য নেগেটিভ। তবে একটিতে অ্যান্টিবডির উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা থেকে স্পষ্ট হয়, ওই বাদুড় অতীতে নিপার সংক্রমণ বহন করেছিল। অর্থাৎ, বর্তমানে কোনও বাদুড়ের শরীরে ভাইরাস নেই। তবে মহিলা নার্সের মৃত্যুর ঘটনায় নিপা ভাইরাস নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ল।