এনআইএ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, মোথাবাড়িতে জমায়েত এবং উত্তেজনা ছড়ানোর পিছনে একটি সুপরিকল্পিত চক্র কাজ করছিল। সেই চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজনের খোঁজে তল্লাশি চলছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে নতুন তথ্য মিলছে বলেও দাবি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 13 April 2026 12:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) মধ্যেই মালদহের কালিয়াচক কাণ্ডে (Maldah Kaliachak Incident) ফের বড় সাফল্য পেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের নাম শাহাদত হোসেন এবং আসিফ শেখ বলে জানা গিয়েছে। এরা কংগ্রেস নেতা বলেই পরিচিত। এর আগে গোলাম রব্বানি নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ। এই ব্যক্তি পঞ্চায়েত সদস্য। বিচারকদের ঘেরাও করে আটকে রাখার ঘটনায় এটিই প্রথম গ্রেফতার ছিল। সেই ঘটনার সূত্র ধরেই আরও বড় চক্রের খোঁজে নামে তদন্তকারী দল।
কালিয়াচকের ঘটনার পর থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়েছিল ওই এলাকায়। অভিযোগ উঠেছিল, বিডিও অফিসের ভিতরে বিচারকদের দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয়েছিল। পরে পুলিশ এসে তাঁদের উদ্ধার করে। সেই সময় বেরোনোর পথে হামলার মুখেও পড়তে হয় বলে অভিযোগ ওঠে। গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় বলেও দাবি করা হয়। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পেয়েছে সংস্থা। সূত্রের দাবি, ধৃতদের মধ্যে একজন কংগ্রেসের সক্রিয় সদস্য এবং অন্যজন স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী বলেই পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের উপর নজরদারি চালানো হচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে।
এনআইএ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, মোথাবাড়িতে জমায়েত এবং উত্তেজনা ছড়ানোর পিছনে একটি সুপরিকল্পিত চক্র কাজ করছিল। সেই চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজনের খোঁজে তল্লাশি চলছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে নতুন তথ্য মিলছে বলেও দাবি। তদন্তকারী সংস্থা ইতিমধ্যেই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্যদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি, ধৃতদের জেরা করে আরও কারা এই ঘটনায় জড়িত, তা জানার চেষ্টা চলছে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে এই গ্রেফতারি ঘটনায় মোথাবাড়ি কাণ্ড নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব পেল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
ইতিমধ্যে আবার মালদহের অতিরিক্ত জেলাশাসক (আইন ও শৃঙ্খলা) শেখ আনসার আহমেদকে শোকজ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, গত ১ এপ্রিল কালিয়াচক এলাকায় যখন উত্তেজনা ছড়ায়, তখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে সেখানে পাঠানো হয়েছিল অতিরিক্ত জেলাশাসক শেখ আনসার আহমেদকে। জেলাশাসকের দফতর থেকে ওই দিন সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ তাঁকে পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে ৪টের মধ্যে তাঁকে সরাসরি ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার কথা বলা হয়েছিল।
শোকজ নোটিসে বলা হয়েছে, বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত— এই দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কালিয়াচকের পরিস্থিতি নিয়ে মাঠ পর্যায় থেকে কোনও তথ্যই পায়নি। অথচ তথ্যানুসন্ধানে জানা গিয়েছে, ওই সময় ওই আইএএস অফিসার মহকুমা শাসক (SDO) এবং বিডিও-র (BDO) সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রাখছিলেন। অর্থাৎ, মাঠের পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি পূর্ণ ওয়াকিবহাল থাকা সত্ত্বেও জেলাশাসকের দফতরে কোনও ‘ইনপুট’ দেননি।