কমিশনের পক্ষ থেকে কলকাতা হাইকোর্টকে জানানো হয়েছে, আদালত যদি প্রতিদিন তালিকা দেয়, তাহলে কমিশনও প্রতিদিন সেই তালিকা আপলোড করে দেবে। যদিও সূত্রের খবর, আদালত জানিয়েছে আগে আগামী শুক্রবার তালিকা প্রকাশ হোক, তারপর পরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মনোজ আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 25 March 2026 18:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আবহেই গত সোমবার মধ্যরাতে এসআইআরের প্রথম অতিরিক্ত তালিকা (West Bengal SIR Supplementary List 2026) প্রকাশ করেছিল নির্বাচন কমিশন। জানানো হয়েছিল, প্রায় ৬০ লক্ষ আবেদনকারীর মধ্যে ২৯ লক্ষের ফয়সালা হয়েছে। বুধবার কমিশনের তরফে জানানো হল, আগামী শুক্রবার দ্বিতীয় অতিরিক্ত তালিকা (Second SIR Supplementary List 2026) প্রকাশ পেতে পারে।
কমিশনের পক্ষ থেকে কলকাতা হাইকোর্টকে জানানো হয়েছে, আদালত যদি প্রতিদিন তালিকা দেয়, তাহলে কমিশনও প্রতিদিন সেই তালিকা আপলোড করে দেবে। যদিও সূত্রের খবর, আদালত জানিয়েছে আগে আগামী শুক্রবার তালিকা প্রকাশ হোক, তারপর পরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এদিকে, কমিশনের শেষ আপডেট বলছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট নিষ্পত্তি হয়েছে ৩২ লক্ষের, এর মধ্যে আনুমানিক ৪০ শতাংশ ডিলিটেড। তবে নিষ্পত্তি হলেও এখনও পর্যন্ত আপলোড হয়েছে মাত্র ১০ লক্ষ।
নন্দীগ্রামের বিডিওকে ভবানীপুরে আনা নিয়ে তৃণমূলের অভিযোগ প্রসঙ্গে কমিশনের বক্তব্য, পাঁচ বছর আগে কে কোথায় কাজ করেছে তার জন্য এখন তাঁকে অন্য জায়গায় আনা যাবে না এটা হয় না। একজন সরকারি আধিকারিক, তাঁকে কমিশন যেখানে মনে করবে সেখানেই নিয়োগ করতে পারে। আধিকারিক কোনও রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির নন, তিনি সরকারি আধিকারিক, কমিশন তাঁকে যে কাজ দেবে সেই কাজই তিনি করবেন।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাতে কমিশনের ওয়েবসাইটে রাজ্যের প্রায় সকল ভোটারকেই আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন দেখানো হয়েছিল। সেই নিয়ে তোলপাড় পড়ে গেছিল। তৃণমূল সহ অন্যান্য বিরোধীরা তীব্র ভাষায় নিন্দা করে নির্বাচন কমিশনের। খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও জানান, তাঁর নামও এই তালিকায় ছিল। তবে কমিশনের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, ওয়েবসাইটের সমস্যাটি সম্ভবত হ্যাক হয়েছিল, নয়তো কিছু টেকনিক্যাল গ্লিচ ছিল।
পাশাপাশি, বিহারের পুলিশ আধিকারিক জয়ন্ত কান্ত, যিনি এ রাজ্যের পুলিশ অবজারভার হিসেবে এসেছেন, তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। দাবি, তাঁর স্ত্রী বিহার বিজেপির নেত্রী। এই বিষয়ে সোনারপুর দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী লাভলি মৈত্রের প্রসঙ্গ টেনে কমিশনের বক্তব্য, এমন অভিযোগ ২০২১ সালেও উঠেছিল যে একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর স্বামী সেই সময় একটা জেলার পুলিশ সুপার ছিলেন। কোনও প্রার্থীর নিকটাত্মীয় সরকারি কোনও পদে চাকরি করতেই পারেন। শুধু এটাই দেখার বিষয় যে তিনি যেন নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে না থাকেন।
নাম বাদ গেলে করণীয় কী?
যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন। প্রতিকারের জন্য ২৩টি জেলার জন্য মোট ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি ট্রাইব্যুনালের মাথায় থাকছেন এক জন করে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি।
আবেদন পদ্ধতি: অনলাইন ও অফলাইন, দুই মাধ্যমেই আবেদন করা যাবে। অফলাইনের ক্ষেত্রে জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক বা মহকুমাশাসকের দফতরে আবেদন করা যাবে। অনলাইনের ক্ষেত্রে ইসিআই নেট অ্যাপ বা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট থেকে যথাযোগ্য নথিপত্র দিয়ে আপিল করা সম্ভব।
রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ট্রাইব্যুনাল অফিসের পরিকাঠামোর ব্যবস্থা করেছে। এই ব্যবস্থাপনার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা পড়বে হাইকোর্টে। আদালতের নিযুক্ত পর্যবেক্ষক ওই অফিসগুলি পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করলে তবেই ট্রাইব্যুনাল কাজ শুরু করবে। সমস্ত আবেদনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই ট্রাইব্যুনাল বহাল থাকবে।