দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি হিংসার ছবি দেখিয়ে ফের বিদ্বেষমূলক পোস্ট করতে শুরু করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস)। ভারতীয় গোয়েন্দাদের সতর্ক করল মার্কিন ইনটেলিজেন্স গ্রুপ। গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, আইএসের মিডিয়া ইউনিট থেকে সম্প্রতি টুইটার পোস্ট করে নানারকম উস্কানিমূলক মন্তব্য করা হচ্ছে। হিংসায় মদত দিতে ধর্মীয় বিভেদমূলক ছবি ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি মার্কিন গোয়েন্দাদের।
রয়টার্সের এক সাংবাদিকের তোলা দাঙ্গার ছবি নিজেদের টুইটার হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছে আইএসআইয়ের একটি মিডিয়া সেল। এই ছবিতে দেখা গেছে এক ব্যক্তিকে ঘিরে ধরে গণপিটুনি দিচ্ছে উন্মত্ত জনতা। রক্তাক্ত ওই ব্যক্তি মাটিতে পড়ে কাতরাচ্ছেন। বেশ কিছুদিন ধরে নেট দুনিয়ায় এই ছবি ভাইরাল। আইএসের মিডিয়া সেলের দাবি, ওই ব্যক্তি আসলে মুসলিম। ছবির ক্যাপশনেও তারা লিখেছে, মুসলিম ব্যক্তিকে নির্মমভাবে পেটাচ্ছে সিএএ সমর্থনকারী হিন্দু দাঙ্গাবাজরা।
https://twitter.com/rcallimachi/status/1233270325653200897
শুধু ছবি নয়, নিজেদের টুইটার হ্যান্ডেলে ধর্মীয় উস্কানিমূলক মন্তব্যও করেছে আইএস। তারা লিখেছে, “সব মুসলিমরা এক হও। যারা লড়াই করছে, তারা অনুমতি পেয়েছে, কারণ তারা ভুল করছে। আল্লাহ শক্তি দেবে, যাদের অন্যায়ভাবে বাড়ি থেকে বার করে দেওয়া হচ্ছে তারা শুধু বলেছিল, আমাদের ঈশ্বর আল্লাহ।” দিল্লির দাঙ্গার বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও বিকৃত করে নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি গোয়েন্দাদের।
গত পাঁচদিন ধরেই ক্ষোভের আগুন জ্বলছে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে। মৃতের সংখ্য়া পঞ্চাশ ছুঁইছুঁই। জখম আড়াইশো জনেরও বেশি। দিল্লির তেগ বাহাদুর হাসপাতালে তিন ধারনের জায়গা নেই। উত্তর-পূর্ব দিল্লির হিংসা রুখতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে। সিট-এর দুটি দল গঠন করা হয়েছে। একটি টিমের দায়িত্বে রয়েছে ডিসিপি জয় তিরকে। অন্য দলটির দায়িত্বে থাকছে ডিসিপি রাজেশ দেও। প্রতি টিমে থাকবেন চারজন এসিপি র্যাঙ্কের পুলিশ। এছাড়াও দিল্লি পুলিশের অ্যাডিশনাল কমিশনার (ক্রাইম) বিকে সিং সিটের এই দুই টিমের সমস্ত কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করবেন। দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে গত কয়েকদিনের অশান্তির ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৪৮টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। ক্রমশ জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি। বাড়ছে অশান্তির আঁচ। তাই সিটের এই দুটো টিমকে ইতিমধ্যেই সংঘর্ষের এলাকায় গিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি টিমের সঙ্গে থাকবেন তিনজন ইন্সপেক্টর, চারজন সাব-ইন্সপেক্টর এবং তিনজন কনস্টেবল। চাপের মুখে পড়ে দিল্লি পুলিশের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন এসএন শ্রীবাস্তব। উত্তর-পূর্ব দিল্লি জুড়ে টহল দিচ্ছে ৭০০০ আধাসেনা।