
শেষ আপডেট: 26 December 2019 18:30
আঠারোর তরুণী থেকে ৭২ বছরের বৃদ্ধা—শাহিন বাগের রাস্তায় ধর্নায় বসেছেন শতাধিক। বিক্ষোভকারীদের কথায়, “আমরা নিজেদের মতো করে প্রতিবাদের আঙুল তুলেছি। শাহিন বাগের এই ধর্না কোনও বিক্ষোভের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে নয়। নিজেদের ছেলেমেয়েদের হাত ধরেই রাস্তায় বসেছি। নিজেদের দাবি একান্তভাবে জানাতে।”
পুলিশ জানিয়েছে, শাহিন বাগের রাস্তায় মুসলিম মহিলা বিক্ষোভকারীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ওই এলাকারই কিছু পুরুষ বিক্ষোভকারীরা। তবে তাঁরা আড়ালেই রয়েছেন। রাস্তার মাঝে চাদর পেতে সেখানে চা-ডিম সেদ্ধর দেদার আয়োজন। পালা করে রাত জাগছেন মহিলারা। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরাও রয়েছেন। এক ছাত্রী শাহনওয়াজের কথায়, “স্থানীয়দের কাছ থেকে চাঁদা তুলে খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। রাস্তার ২০০ মিটার অবধি ব্যারিকেড দিয়ে দিয়েছেন এলাকার লোকজন। আমরা সেখানেই বসে স্লোগান তুলেছি।”
এই বিক্ষোভ অনির্দিষ্টকালের জন্য, জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। ২৫ ডিসেম্বর আরও বড় জমায়েত দেখা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, সদ্যোজাত শিশুদের নিয়েও ধর্নায় বসে পড়েন মহিলারা।
গত রবিবার থেকে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে দিল্লি। ১৪৪ ধারাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিল্লির রাস্তায় দাপিয়ে মিছিল করেছিলেন প্রতিবাদীরা। পুলিশ জানিয়েছিল বেশ কিছু জায়গায় বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। প্রতিবাদ-বিক্ষোভ-মিছিলে অবরুদ্ধ হয়ে যায় দিল্লির রাজপথ। রাজধানীর জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের বিক্ষোভ হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। পুলিশও বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকে অনেককে আটক করে। মঙ্গলবার পূর্ব দিল্লির সীলামপুরে হিংসা ছড়ায়। ২ হাজার বিক্ষোভকারী পুলিশের উদ্দেশে পাথর ছুড়তে থাকেন। পুলিশ পাল্টা কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায়। লালকেল্লার সামনেও পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। বিক্ষোভ রুখতে গেলে জনতা-পুলিশ খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয়। দিল্লির মান্ডি হাউস চত্বরেও পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে র্যাফ নামানো হয়। লালকেল্লার সামনে থেকে আটক করা হয় বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজকর্মী থেকে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে।