
শেষ আপডেট: 30 November 2019 18:30
সরমতি জনজাতির মহিলারা নিজেদের শরীরের নানা রকম বদল ঘটাতেন। এই জনজাতিতে লিঙ্গভেদ তেমন মাথাচাড়া দেয়নি। নারীরাও সমান তালেই যুদ্ধ করতেন পুরুষদের মতো, শরীরচর্চা করতেন, বলবৃদ্ধির নানা কায়দা রপ্ত করতেন। ইতিহাসবিদদের কথায়, সরমতি মহিলারা নিজেদের ডান স্তন পুড়িয়ে ফেলতেন। বিশ্বাস ছিল এমন করলে নাকি শিকার ও যুদ্ধ করার ক্ষমতা বাড়ে।
সরমতি জনজাতি[/caption]
প্রত্নতাত্ত্বিকরা বলছেন, সরমতিয়ানরা নানারকম জটিল ও বিচিত্র রীতি-রেওয়াজে অভ্যস্ত ছিল। মনে করা হয়, মহিলারা তাদের করোটির এমন বিকৃতি ঘটাতেন নিজে থেকেই। শিশু জন্মানোর পরেই মায়েরা সদ্যোজাতের মাথায় খুব কষে দড়ি বেঁধে দিতেন। তারপর মাথার একদিক টানটান করে সেই দড়ির পাক দেওয়া হত। প্রতিদিন ম্যাসাজ করতে করতে করোটির একপ্রান্ত লম্বা করার চেষ্টা চলত। এই প্রক্রিয়া শুরু হত শিশু জন্মাবার কিছুদিনের মধ্যেই, করোটির হাড় শক্ত হওয়ার আগেই।
[caption id="attachment_163896" align="aligncenter" width="444"]
শিশুর মাথায় দড়ি বেঁধে চলত খুলি বিকৃত করার রেওয়াজ[/caption]
‘স্কাল মডিফিকেশন’-এর রেওয়াজ অবশ্য অনেক প্রাচীন জনজাতির মধ্যেই দেখা গেছে। মিশরের ফ্যারাওদের মধ্যেও এমন রীতি দেখা গেছে। পেরু, ফ্রান্স, আফ্রিকার কিছু অংশেও এমন লম্বাটে খুলির কঙ্কাল খুঁজে পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা।

আর্টিফিশিয়াল ক্র্যানিয়াল ডিফর্মেশন (এসিডি)
আফ্রিকা, ইউরোপের অনেক জনজাতির মধ্যে দেখা গেছে এমন রেওয়াজ[/caption]
৩০০ থেকে ৭০০ খ্রিস্টাব্দে ইউরোপ জুড়ে বর্বর যাযাবার জাতি হুন ও গথদের মধ্যে সংঘর্ষ সে যুগের বিবর্তনের ইতিহাসের অনেক প্রমাণ দেয়। ইতিহাসবিদরা বলেন, হুনদের মধ্যেও এমন ‘স্কাল মডিফিকেশন’-এর রীতি ছিল। গবেষণা বলছে, একটা সময় এই আর্টিফিশিয়াল ক্র্যানিয়াল ডিফর্মেশন (এসিডি)-র বিকাশ হয় গোটা ইউরোপ জুড়ে। ইউরোপে কৃষ্ণসাগরের কাছাকাছি দেশগুলোয় এমন রীতি শুরু হয়েছিল দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতকে। পঞ্চম ও ষষ্ঠ শতকে প্রায় সব লড়াকু উপজাতি গোষ্ঠীগুলিই রপ্ত করেছিল এই প্রথা। শিশুর মাথা শক্ত করে বেঁধে রেখে খুলির বিকৃতি ঘটানো হত, সে মহিলা হোক বা পুরুষ। ক্রোয়েশিয়া থেকে এমন বিকৃত খুলির কঙ্কাল আগেও খুঁড়ে বার করেছিলেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। তবে রাশিয়ার আরকাইমে পাওয়া এই কঙ্কালের সঙ্গে তার বেশ কিছু ফারাক আছে। সেটা রীতির বদল নাকি অন্য কোনও কারণ সেটা স্পষ্ট নয়। আরও একটা বিষয়ে ধন্দে রয়েছে গবেষকরা। সেটা হল এমন বিকৃত করোটির কঙ্কালের অনুপাত বেশিরভাগই মহিলাদের। তার মানে এই রীতির প্রয়োগ কি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মহিলাদের উপরেই করা হত তার প্রমাণ এখনও মেলেনি।
আরও পড়ুন:
https://www.four.suk.1wp.in/news2019-indra-lal-roy-this-forgotten-pilot-was-just-19-when-he-became-indias-first-and-only-flying-ace/