দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক বছর আগে চিনের উহান থেকেই প্রথম ছড়িয়েছিল নভেল করোনাভাইরাস। এখনও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তা রয়েছে। সংক্রমণের মাত্রা কমলেও তা একেবারে শেষ হয়নি। এই অবস্থায় সংক্রমণের উৎস অনুসন্ধানে চিনে যাওয়ার কথা ছিল এক বিশেষজ্ঞ দলের। কিন্তু আন্তর্জাতিক গবেষকদের সেই দলকে দেশে ঢোকার অনুমতি দেয়নি চিন। এই ঘটনায় হতাশ হয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু প্রধান টেড্রস আধানম।
জানুয়ারি মাসে আন্তর্জাতিক গবেষকদের ১০ সদস্যের একটি দলের যাওয়ার কথা ছিল চিনে। মূলত উহানে একটু গবেষণা চালাতেন তাঁরা। কিন্তু সেই অনুমতি তাঁদের দেওয়া হয়নি। এই প্রসঙ্গে জেনেভাতে একটি অনলাইন সাংবাদিক বৈঠকে টেড্রস আধানম বলেন, “আমরা আজ জানতে পেরেছি বিশেষজ্ঞ দলের চিনে যাওয়ার অনুমতি এখনও চিনের আধিকারিকদের তরফে দেওয়া হয়নি। আমি চিনের আধিকারিকদের সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগে রয়েছি এবং আমি আবার তাদের ভাল করে বুঝিয়ে বলেছি এই মিশন হু-এর কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই ঘটনায় আমি খুব হতাশ। আমি আশা করছি যে সমস্যার জন্য চিন এখনও অনুমতি দেয়নি তা খুব তাড়াতাড়ি মিটে যাবে।”
এই গবেষক দলের নেতৃত্বে রয়েছেন পিটার বেন এমবারেক। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাণী রোগ বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অন্যতম। গত জুলাই মাসে তিনি চিনে একটি গবেষণা চালিয়ে এসেছেন। হু-এর জরুরি বিভাগের প্রধান মাইক রায়ান জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই এই দলের দুই সদস্য চিনে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। একজন ফিরে এসেছেন। অন্যজন অন্য একটি দেশে রয়েছেন।
চিনে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই অবশ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আমেরিকা। উহানে সংক্রমণ ছড়ানোর পরে যখন প্রায় গোটা দুনিয়া চিনকে বয়কট করার ডাক দিয়েছে সেই সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। সেইজন্য আমেরিকা হু-র সমালোচনা করে। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হু-কে আর্থিক অনুদান দেওয়া বন্ধ পর্যন্ত করে দেন। শুধু আমেরিকা নয়, অনেক দেশই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। চিনের প্রতি তারা নরম মনোভাব নিচ্ছে, এমনটাই অভিযোগ ছিল তাদের। যদিও এবার চিনের পদক্ষেপ হতাশ করল হু প্রধানকেই।