দ্য ওয়াল ব্যুরো: আয়ারল্যান্ডে ধর্ষিতা হয়েছিল এক সতেরো বছরের কিশোরী। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছিল মামলা। কিন্তু ভরা আদালত চত্বরে ফের ধর্ষিতা হতে হয় ওই কিশোরীকে।
প্রতিপক্ষের আইনজীবী সবার সামনে প্রকাশ করেছিলেন ঘটনার দিন কিশোরীর পরনে থাকা থং (এক ধরণের সরু এবং উন্মুক্ত প্যান্টি)। সবার সামনে বলা হয়েছিল এ ধরণের অন্তর্বাস যিনি পরেন তাঁর ইচ্ছাতেই গোটা ঘটনাটা ঘটেছে। আর অভিযুক্তও নাকি কিশোরীর পোশাকের জন্যই তার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল। এরপরেই নির্যাতিতার সমর্থনে প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন আয়ারল্যন্ডের মহিলারা। প্রকাশ্যেই নিজেদের অন্তর্বাস (প্যান্টি) দেখিয়ে তাঁরা জানিয়েছিলেন, কে কী পরবেন সেটা একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার। স্পষ্ট ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়ে দাবি করেছিলেন, পোশাক নয়, পরিবর্তন প্রয়োজন মানুষের মনোভাবের।
অনেকেই হয়তো ভাবেন, ধর্ষিতার চরিত্র কাঁটাছেঁড়া করা একমাত্র ভারতীয় সমাজের একাংশেরই স্বভাব। তবে ব্যাপারটা একেবারেই তা নয়। গোটা বিশ্বেই ছবিটা এক। উনিশ-বিশের ফারাক। তবে বিদেশে অনেক সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। প্রতিবাদের ভাষা হয় অনেক কঠিন। কিন্তু ভারতেও কি এমনটা সম্ভব? এ বিষয়েই জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, 'ওয়ার্ল্ড অফ উইমেন' এনজিও-র প্রতিষ্ঠাতা কবিতা গার্লাকে। কবিতা জানিয়েছেন, কোনও বড় বদল আনতে গেলে অবশ্যই প্রতিবাদটাও সেরকম সাংঘাতিক কিছুই হওয়া উচিত, যাতে সমাজ নড়ে যায়। তবে, ভারতীয় সমাজ একুশ শতকে এসেও মারাত্মক রক্ষণশীল। তাই এখানে এই ধরণের প্রতিবাদ কতটা জায়গা করে নিতে পারবে সে বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে কবিতার।
কবিতা বলেন, "কোন মহিলা কী পোশাক পরবেন, কী অন্তর্বাস পরবেন সেটা তাঁর ব্যাপার। মহিলারা কিন্তু অন্তর্বাসকে কেবলমাত্র নিজেদের পোশাকের একটা অঙ্গ বলেই মনে করেন। এর বেশি কিছুই নয়। কিন্তু বেশ কিছু বিজ্ঞাপন এবং সিনেমার মাধ্যমে বোঝানো হয় যে মহিলাদের অন্তর্বাস মানেই উত্তেজক জিনিস।"
তবে সমীক্ষা বলছে, ভারতেও কিন্তু এ ধরণের বেশ কিছু প্রতিবাদ হয়েছে।
'Power to Women Safety and Empowerment Workshops'-এর প্রতিষ্ঠাতা ফ্র্যাঙ্কলিন জোসেফ জানিয়েছেন, কেরলের এক মুভমেন্টের কথা। যেখানে, এক অধ্যাপক মন্তব্য করেছিলেন, মহিলারা তরমুজের মতো নিজেদের স্তন প্রদর্শন করেন। সমাজের শিক্ষিত স্তরের এক ব্যক্তির এ হেন মন্তব্যে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল কেরলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের অনাবৃত স্তন তরমুজ দিয়ে ঢেকে ছবি দিয়েছিলেন মহিলারা।
কিন্তু হাজার প্রতিবাদের ঝড় উঠলেও, প্রতিবাদের ভাষা কঠোর হলেও, মানসিকতায় বদল আসছে কই? পরিসংখ্যান বলছে, উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে ধর্ষণের সংখ্যা। শুধু দেশে নয়। সারা বিশ্বেই চিত্রটা এক। তবে ভবিষ্যতে বদল যে আসবে সেই ব্যাপারে আশাবাদী সবাই। সেদিন হয়তো ভরা কোর্টরুমে নির্যাতিতার চরিত্রের বিশ্লেষণ হবে না। বরং অভিযুক্তের দিকেই আঙুল তুলবে সমগ্র সমাজ। বলা হবে নির্যাতিতার পোশাক নয়, অভিযুক্তের মানসিকতাই ধর্ষণের মূল কারণ। হয়তো জিতে যাবেন, 'পিঙ্ক' ছবির তাপসী পান্নুরা।