
শেষ আপডেট: 14 October 2018 07:40
ক্রাউন প্রিন্স সলমন আল সৌদ এবং বাদশাহ সলমন বিন আবদুল আজিজ[/caption]
ক্রাউন প্রিন্স সলমন ক্ষমতায় এসেই রক্ষণশীল সৌদি আরবে, রাশিয়ার গর্বাচভের মতো গ্লাসনস্ত (খোলামেলা আলোচনা) এবং পেরেস্ত্রোইকার (পুনর্গঠন) ঢেউ এনে চলেছেন একের পর এক। হয়ে উঠেছেন পশ্চিমি দেশগুলির প্রিয়পাত্র। সৌদি নারীদের গাড়ি চালাবার অনুমতি দিয়েছেন। নারীদের স্বাধীনভাবে নিজস্ব ব্যবসা শুরুর অনুমতি দিয়েছেন। নারীদের সেনা বাহিনীতে যোগদানের অনুমতি দিয়েছেন। সৌদির কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। সৌদি আরবে নারীদের পা পর্যন্ত পুরো শরীর ঢেকে রাখার জন্য যে ঢিলেঢালা পোশাক ব্যবহার করে, তাকে বলা হয় আবায়া। আগে আবায়া পরা বাধ্যতামূলক ছিল। যুবরাজ সলমন আল সৌদ আবায়া পরা বা না পরা নারীদের হাতেই ছেড়ে দিয়েছেন। নারীদের স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখার অনুমতি পর্যন্ত দিয়েছেন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও সৌদি যুবরাজে মোহিত, এমনকী সারা বিশ্বও।
[caption id="attachment_42849" align="aligncenter" width="720"]
সৌদি নারীরা গাড়ি চালাবার অনুমতি পেয়েছেন[/caption]
এ পর্যন্ত পড়ে মনে হতে পারে, সৌদি আরব অবশষে মুক্তির আলো দেখলো। সৌদি মহিলারা, সৌদি পুরুষদের সমান অধিকার পেলেন। তাহলে জেনে রাখুন World Economic Forum -এর তালিকা মোতাবেক, নারী ও পুরুষের সমানাধিকারের ক্ষেত্রে সৌদি আরবের স্থান ১৩৪ টা দেশের মধ্যে ১২৯ তম। কেন, তা এ বার জেনে নিন।
পাবলিক ট্রান্সপোর্টে মহিলারা একা উঠতে পারবেন না
বাসে উঠতে পারবেন না। ট্রেনে উঠতে পারবেন তবে ট্রেনের মহিলা কামরায় ওঠা বাধ্যতামূলক। তাই সৌদি মহিলারা পায়ে হাঁটতেই পছন্দ করেন। অনেক সৌদি মহিলা দশ পনেরো কিলোমিটার পথ হাঁটতে বাধ্য হন।
বাড়ির বাইরে মহিলাদের পোশাকের রঙ হবে কালো
বাড়ির বাইরে বেরোলে কালো পোশাক পরতেই হবে। তাঁদের পুরো শরীর ঢাকা থাকবে। শুধু মুখ। হাতের পাতা আর পায়ের পাতা দেখা যাবে। কোনও অবস্থাতেই বিদেশি পোশাক, যেমন স্কার্ট, জিন্স পরা যাবে না।
মহিলারা কোনও বিষয়ে নিজের সিদ্ধান্ত বা মতামত জানাতে পারবেন না
যত বয়সই হোক না কেন সৌদি মহিলাদের বিষয়ে যেকোনও সিদ্ধান্ত নেবেন তাঁদের অভিভাবকরা। পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া কোনও মহিলা সৌদি আরব ছাড়তে পারবেন না। বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতে পারবেন না। তাই বেশিরভাগ সৌদি মহিলা উচ্চ শিক্ষিত হয়েও তাঁদের শিক্ষা নিজের বা দেশের কাজে লাগাতে পারেন না।
সৌদি আরবে মহিলাদের চাকরি করার অনুমতি নেই
যদি তাঁদের স্বামী বা অভিভাবকরা অনুমতি দেন, তাহলে যেখানে খালি মহিলারাই কাজ করেন, একমাত্র সেখানেই কাজ করতে পারেন। সরকারি ভাবে নারীদের সেনা বাহিনীতে যোগদানের অনুমতি মিলেছে। কিন্তু পরিবারের পুরুষদের অনুমতি না মেলায় সেনাবাহিনীতে নারীদের যোগদান এখনও বিশবাঁও জলে।
পাবলিক প্লেসে নারীরা পুরুষের পাশে বসতে পারবেন না
রেস্টুরেন্টে, সমুদ্রের ধারে, যেকোনও পাবলিক প্লেসে পুরুষের পাশে বসতে পারবেন না। প্রত্যেক পাবলিক প্লেসে মহিলাদের জন্য আলাদা জায়গা আছে। বাধ্যতামূলকভাবে সেখানে বসতে হবে। অন্যথায়, আইন ভাঙার অপরাধে মহিলাদের গ্রেফতারও করা হতে পারে।
নারীরা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন না
সৌদি নারী গাড়ি চালানোর অনুমতি পেয়েছেন। কিন্তু গাড়ি কিনতে পারবেন না। কেননা তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেই। তাঁর নামে নিজস্ব কোনও অর্থ নেই। পুরুষ অভিভাবকের হাতে পরিবারের সব অর্থ নিয়ন্ত্রিত হয়।
সৌদি নারীরা নিজে থেকে পাসপোর্ট নিতে পারেন না অথবা বিদেশে যেতে পারেন না
তাঁদের পুরুষ অভিভাবক তাঁদের হয়ে আবেদন করলে তবেই সৌদি নারীদের পাসপোর্ট হবে। সৌদি নারীদের দেশ ছাড়ার অনুমতি মেলা এক কথায় অসম্ভব।
সৌদি নারীরা নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করতে কিংবা তালাক দিতে পারেন না
পছন্দের পুরুষকে বিয়ে করতে চাইলে সৌদি নারীকে তাঁর পুরুষ অভিভাবকের কাছ থেকে অনুমতি নিতেই হবে। বাবা, কাকা, জ্যাঠাতো বটেই, এমনকি ছোট ভাইও নারীর অভিভাবক। স্বামী অনুমতি না দিলে তালাকও দিতে পারবেন না সৌদি নারী।
অতএব, আপাতদৃষ্টিতে সৌদি নারীদের অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে মনে হলেও, সৌদি আরবের নারীরা কিন্তু সমানাধিকারের থেকে কয়েক আলোকবর্ষ দূরেই আছেন।