দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার মহাত্মা গান্ধীর প্রয়ান দিবস। আর তার আগেই আমেরিকার ক্যালিফর্নিয়ার ডেভিস সিটির একটি পার্কে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি ভাঙার ছবি সামনে এসেছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ আমেরিকায় বসবাসকারী ভারতীয়রা। তাঁদের দাবি খালিস্তানিরা এই মূর্তি ভাঙার পিছনে যুক্ত। যারা মূর্তি ভেঙেছে তাদের কড়া শাস্তির দাবি তুলেছেন তাঁরা।
উত্তর ক্যালিফর্নিয়ার ডেভিস সিটির সেন্ট্রাল পার্কে মহাত্মা গান্ধীর একটি ২৯৪ কেজি ওজন ও ৬ ফুট লম্বা ব্রোঞ্জের মূর্তি ছিল। গোড়ালি থেকে মূর্তিটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। সেইসঙ্গে মূর্তির মুখটি ভেঙে টুকরো টুকরো করে দেওয়া হয়েছে। গত ২৭ জানুয়ারি সকালে প্রথম পার্কের একজন কর্মী এই ঘটনা দেখতে পান। তিনিই পুলিশে খবর দেন।
ডেভিস সিটির কাউন্সিলম্যান লুকাস ফ্রেরিক্স জানিয়েছেন, মূর্তিটি এই মুহূর্তে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন করে সেটি তৈরি করার পরে ফের বসানো হবে। কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
২০১৬ সালে ভারত সরকার ডেভিস সিটি প্রশাসনকে এই মূর্তিটি দান করে। সেই সময়েই গান্ধী ও ভারত বিরোধী কিছু সংগঠন এই ঘটনার প্রতিবাদ করেছিল। এই প্রতিবাদের নেতৃত্বে ছিল অর্গানাইজেশন ফর মাইনরিটিজ ইন ইন্ডিয়া বা ওএফএমআই। প্রতিবাদ স্বত্ত্বেও মূর্তিটি বসানোর সিদ্ধান্ত নেয় ডেভিস সিটি প্রশাসন। তারপর থেকে মূর্তি ভেঙে ফেলার ডাক দিত ওএফএমআই।
https://twitter.com/journopranay/status/1355382979351068673?s=12
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ আমেরিকায় বসবাসকারী ভারতীয়রা। ফ্রেন্ডস অফ ইন্ডিয়া সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল নামের এক সংগঠনের সদস্য গুয়ারং দেশাই জানিয়েছেন, “বেশ কিছু ভারত ও হিন্দু বিরোধী সংগঠন যেমন ওএফএমআই ও খালিস্তানিরা অনেক বছর ধরে একটা ঘৃণার পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে। তারা শুধুমাত্র ভারতের মণীষীদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়িয়েছে তাই নয়, তারা হিন্দুদের বিরুদ্ধে কুৎসা করে। এমনকি ক্যালিফর্নিয়ার স্কুলের পাঠ্যবই থেকে ভারতের নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল তারা। আমরা এই ঘটনার নিন্দা করছি। যারা এই কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করছি।”
কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে সেই সম্বন্ধে এখনও কিছু না জানা গেলেও একটি প্রো-খালিস্তানি গ্রুপ নিজেদের ফেসবুক পেজে গান্ধীজির ভেঙে যাওয়া মূর্তির ছবি দিয়ে লিখেছে, ‘আজ খুব ভাল দিন।’ এই ধরনের মন্তব্য তুলে ধরেই মূর্তি ভাঙার জন্য খালিস্তানিদের দায়ী করছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা।