
শেষ আপডেট: 23 August 2020 06:46
গন্ধে টেকা দায়, উড়ছে ছাই:
এই বজ্রপাতের জেরে ক্যালিফোর্নিয়ার বনভূমিতে যে আগুন ধরেছে তার ধোঁয়ায় সমস্যায় পড়েছেন বাসিন্দারা। এই ধোঁয়ার গন্ধে টেকা দায় জঙ্গল লাগোয়া এলাকার মানুষদের। রাস্তায় বেরলেই গায়ে এসে পড়ছে ছাই। তার জেরে রাস্তাঘাটে মানুষের বের হওয়া অনেক কমে গিয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার দমকল দফতর জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই প্রায় ২৪টি এলাকায় আগুন নেভানোর কাজ করছে তাদের দফতর। কিন্তু তাতেও আগুন আয়ত্বে আনা সম্ভব হচ্ছে না। তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ক্রমেই আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে এই দাবানল। আর তার জেরে বেড়েই চলেছে দূষণ।
তীব্র তাপপ্রবাহের জেরে শুকনো জঙ্গলে দাবানল ছড়াতে বেশি সময় লাগছে না। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই ভাকাভিল ও নাপা ভ্যালির বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই এলাকা জঙ্গলের অনেক কাছে থাকায় এখানেই তার সবথেকে খারাপ প্রভাব পড়ছে। আর এসবই চলছে করোনা সংক্রমণের মধ্যে। এমনিতেই সংক্রমণ রুখতে মাস্ক পরার কথা বলছিল প্রশাসন। সেই মাস্ক এবার আরও বেশি দরকারি হয়ে উঠেছে। দূষণ ও ধোঁয়ার হাত থেকে বাঁচতে বাসিন্দাদের মাস্ক পরতে হচ্ছে। করোনা সংক্রমণ তো বটেই এই দমবন্ধ হওয়া পরিবেশের হাত থেকে বাঁচতেও সবাই বাড়িতে থাকা শ্রেয় মনে করছেন।
ভাইরাল হয়েছে আগুনের ছবি:
ইতিমধ্যেই ক্যালিফোর্নিয়ার এই পরিস্থিতির ছবি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বিশেষ করে নোয়া বার্গার নামের এক ফটোগ্রাফারের ছবি ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, একটা বোর্ডে লেখা রয়েছে ‘মাস্ক পরুন, হাত ধোবেন, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলুন, সাবধানে থাকুন’। কিন্তু ছবিতে লেখা বাদে শুধু দেখা যাচ্ছে আগুন আর ধোঁয়া। এই ধোঁয়া বুঝিয়ে দিচ্ছে ওই এলাকার অবস্থা ঠিক কেমন। কোভিড ১৯, তাপপ্রবাহকে ছাড়িয়ে এই সময় আসল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই দূষণ ও ধোঁয়া।
মাস্ক পরে আটকাতে হচ্ছে ধোঁয়া:
স্থানীয় প্রশাসনের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, দরকার না পড়লে যেন কেউ বাড়ির বাইরে না বের হন। শুধু তাই নয়, এন ৯৫ মাস্ক ব্যবহার করার কথা বলা হচ্ছে বাসিন্দাদের। কারণ, এই মাস্কই পিএম ২.৫-এর থেকে সুক্ষ্ম ধূলিকণাকে আটকাতে সক্ষম। আর এই সময় সেখানকার আকাশে এই ধূলিকণা ভেসে বেড়াচ্ছে। আর তাই এই সপ্তাহে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় মাস্কের অভাব দেখা দিয়েছে। সেটা মোকাবিলা করার চেষ্টা করছে প্রশাসন।
এমনিতেই তীব্র তাপপ্রবাহে সমস্যায় পড়েছেন ডেথ ভ্যালির মানুষ। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের তরফে জানানো হয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় সময় অনুসারে রবিবার বেলা ৩টে ৪১মিনিট নাগাদ ডেথ ভ্যালির তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ১৩০ ডিগ্রি ফারেনহাইট। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস আরও জানিয়েছে, যাচাইয়ের পর যদি দেখা যায় যে পারদ সত্যিই এতটা চড়েছিল তাহলে গতবছর অগস্ট মাসে ডেথ ভ্যালিতে যে তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল তাকে মাত্র ৩ ডিগ্রির ব্যবধানে হারিয়ে দেবে এ বছরের উষ্ণতা।
ক্যালিফোর্নিয়ার ডেথ ভ্যালি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুষ্ক এবং উষ্ণতম স্থান হিসেবে পরিচিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ১৯০ ফুট। দক্ষিণ-পূর্ব ক্যালিফোর্নিয়ার মোজাভে মরুভূমিতে রয়েছে এই ডেথ ভ্যালি। মারাত্মক গরমের জন্য এই এলাকা বরাবরই বিখ্যাত। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে ডেথ ভ্যালির গড় তাপমাত্রা ছিল ১০৮.১ ডিগ্রি ফারেনহাইট। বিশ্বের পরিসংখ্যানে এটিই ছিল উষ্ণতম মাস। ওই বছর জুলাই মাসে অন্তত ২১ দিন পারদ পৌঁছেছিল ১২০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে।
সমস্যায় পড়েছে বাচ্চারা:
এই তাপপ্রবাহে এমনিতেই সমস্যায় পড়ে বাচ্চারা। তার পরে এবার দাবানলের ধোঁয়ায় বাচ্চারা দ্বিগুণ সমস্যায় রয়েছে। বাড়ির মধ্যে সবসময় এয়ার কন্ডিশন চালিয়ে রাখতে হচ্ছে। কিন্তু তাতেও সমস্যা হচ্ছে। কারণ বাড়ির বাইরে তীব্র তাপপ্রবাহ থাকায় এসির পাইপের মধ্যে দিয়েও ছাই ঢুকে পড়ছে। এসি মেশিনে এই ছাই ঢুকে পড়ায় তা খারাপও হয়ে যাচ্ছে। তাই বাচ্চাদের নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন বাবা-মারা। কীভাবে এই সমস্যা মিটবে তা বুঝে উঠতে পারছেন না তাঁরা। অর্থাৎ কোভিড বা তাপপ্রবাহ নয়, ক্যালিকোর্নিয়ার বাসিন্দাদের কাছে এখন প্রধান সমস্যা হয়ে উঠেছে দাবানল ও দূষণ।