
শেষ আপডেট: 2 October 2019 04:57
তবে নিজের কাজের জন্য বিন্দুমাত্র অনুতাপ ছিল না ওই প্যাথোলজিস্টের। বরং ঠান্ডা মাথায় সে বলেছিল, "সাধারণত মৃতদেহ কাটার সময় আমি গান শুনি। মাঝে মাঝে হাতে কফির মগ আর সিগারেটও থাকে।" ওই প্যাথোলজিস্ট আরও জানায়, "এই প্রথম কোনও কিছু মাটিতে শুইয়ে কাটতে হয়েছে আমাকে। কারণ কসাইরাও তো সাধারণত লম্বা করে ঝুলিয়ে পশুদের জবাই করে।" হেলেনা জানিয়েছেন, ৪৫ মিনিটের ওই রেকর্ডিংয়ের একজন মানুষকে নৃশংস ভাবে মেরে ফেলার নানান পরিকল্পনা শোনা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, অনুতাপের বদলে সকলেই মধ্যেই ছিল এক পৈশাচিক উল্লাশ।
২০১৮ সালের ২ অক্টোবর বাগদত্তা হ্যাটিস সেনজিজকে বিয়ে করার জন্য প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করতে ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে গিয়েছিলেন ওয়াশিংটন পোস্টের কলামনিস্ট ৫৯ বছরের জামাল খাশোগি। তার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তিনি। পরে জানা যায়, খুন হয়েছেন তিনি।
অনুমান করা হয়, সরকার বিরোধী মনোভাব পোষণের জন্য কনস্যুলেটের ভিতরেই শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছিল তাঁকে। তারপর প্রমাণ লোপাটের জন্য টুকরো টুকরো করে কাটা হয় জামাল খাশোগির দেহ। সাতটা ঢাউস কালো ব্যাগে করে পাচার করা হয় দেহাংশ। রিয়াধ থেকে বিশেষ দল পাঠানো হয়েছিল খাশোগির মুখ বন্ধ করার জন্য। অভিযোগ উঠেছিল খোদ সৌদির প্রিন্স সলমনের বিরুদ্ধে। সিআইএ-র দাবি ছিল, সৌদির প্রিন্সের অঙ্গুলি হেলনেই মরতে হয়েছে জামাল খাশোগিকে। এই ঘটনায়, সৌদির উপ-গোয়েন্দা প্রধান আহমাদ আল-আসিরি এবং যুবরাজ মহম্মদ বিন সালমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সৌদি আল-কাহতানিকে খুনের ঘটনায় বরখাস্তও করা হয়।
এর মাঝেই প্রকাশ্যে এসেছিল আরও অনেক তথ্য। তুরস্কের রডিনা পার্টির নেতা ডগু পেরিনসেক দাবি করেন, ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেট জেনারেলের বাড়ির বাগানে একটি কুয়ো থেকে উদ্ধার করা হয় নিহত জামাল খাশোগি’র দেহ। ইউনাইটেড কিংডমের একটি সংবাদ মাধ্যমও এমনটাই দাবি করেছিল। এর পাশাপাশি তুরস্কের প্রেসিডেন্টও জামাল খাশোগি’র মৃত্যুর জন্য সৌদি আরবের দিকেই আঙুল তোলেন।সৌদির সরকারও স্বীকার করে নিয়েছিল যে ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটের মধ্যেই খুন করা হয়েছে খাশোগিকে।