জন্মদিনে ৭ ঘণ্টার প্রতিবাদে সামিল গ্রেটা, সতেরোর কিশোরীকে কুর্নিশ জানাল নেট দুনিয়া
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সদ্যই সতেরোতে পা দিয়েছে সুইডিশ কিশোরী গ্রেটা থুনবার্গ। বয়স বুঝিয়ে দিচ্ছে এবার তাকে তরুণী বলার দিন এগিয়ে আসছে। আর গ্রেটা নিজেও যে গত এক বছরে অনেকটা পরিণত হয়েছে সেটা আবারও বুঝিয়ে দিল বিশ্ববাসীকে। গ্রেটা নিজের জন্মদিন পালন করে
শেষ আপডেট: 4 January 2020 11:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সদ্যই সতেরোতে পা দিয়েছে সুইডিশ কিশোরী গ্রেটা থুনবার্গ। বয়স বুঝিয়ে দিচ্ছে এবার তাকে তরুণী বলার দিন এগিয়ে আসছে। আর গ্রেটা নিজেও যে গত এক বছরে অনেকটা পরিণত হয়েছে সেটা আবারও বুঝিয়ে দিল বিশ্ববাসীকে। গ্রেটা নিজের জন্মদিন পালন করেছে একদম অন্যভাবে।
শুক্রবার ছিল গ্রেটার জন্মদিন। সুইডেনের স্টকহোম শহরে সেদিন ছিল মারাত্মক কনকনে ঠান্ডা। তবে তাতে হেলদোল নেই এই মেয়ের। টানা ৭ ঘণ্টা সুইডিশ পার্লামেন্টের বাইরে বসে প্রতিবাদ চালিয়ে গিয়েছে সে। তীব্র ঠান্ডা, কনকনে হাওয়া কিছুই দমিয়ে রাখতে পারেনি কিশোরী গ্রেটার অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে।
কিন্তু হঠাৎ এমন অভিনব কায়দায় জন্মদিন পালন কেন?
মুচকি হেসে গ্রেটার জবাব, “আমি সেই ধরনের মানুষ নই যে আড়ম্বরের সঙ্গে জন্মদিন পালন করব।‘ প্রতি কথা বলার সময় গ্রেটার চোখেমুখে ফুটে উঠছিল আত্মবিশ্বাস। গ্রেটার কথায়, “অন্যান্য শুক্রবারের মতোই এদিনও পার্লামেন্টের সামনে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ৩টে পর্যন্ত দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেছি। তারপর চলে গিয়েছি। জন্মদিনে কেক কাটা হয়নি ঠিকই। কিন্তু শান্তিতে ডিনারটা খেতে পেরেছি।“

সারা বিশ্ব এখন একডাকে চেনে সুইডেনের গ্রেটা থুনবার্গকে। কয়েক মাস আগেই রাষ্ট্রসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে নিজের বক্তৃতায় ঝড় বইয়ে দিয়েছিল গ্রেটা। পরিবেশ বাঁচানোই যে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য, স্পষ্ট ভাষায় সেটা বুঝিয়ে দিয়েছিল সকলকে। বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে বিপুল পরিমাণ বরফ গলে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। ক্রমশ বেড়ে চলেছে সমুদ্রের জল। সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে গ্রিন হাউস গ্যাসের লাগামছাড়া বৃদ্ধি। দূষণের মাত্রা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে প্রতিদিন। তাই পরিবেশ বাঁচাতে উদ্যোগ নিয়েছে এই সুইডিশ তরুণী।
২০১৯ সালটা ভীষণরকম ব্যস্ততার মধ্যে কেটেছে গ্রেটার। পরিবেশ বাঁচানোর যে লড়াইয়ে সে নেমেছে সেখানে শুনতে হয়েছে নানা বিদ্রূপ। সম্মুখীন হতে হয়েছে বিভিন্ন সমস্যার। কিন্তু কোনও কিছুতেই হার মানেনি এই কিশোরী। তার কথায়, “সারা বছরটা খুব ব্যস্ততার মধ্যে কেটেছে। কিন্তু জীবনের একটা অন্য মানে খুঁজে পেয়েছি। আমি ভাগ্যবান যে জীবনে কী করতে হবে সেটা বুঝে গিয়েছি এত তাড়াতাড়ি। আর এটাও দেখতে পারছি যে আমার কাজ বাস্তবে প্রভাবও ফেলছে।“