পাঁচ লাখ অ্যাকাউন্ট হ্যাক, ঝাঁপ ফেলছে গুগল প্লাস
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হ্যাকাররা মোটামুটি হ্যাকিংয়ের বিশ্বযুদ্ধ শুরু করে দিয়েছে। ইন্টারনেটে ব্যবসা করে খায় এমন কোম্পানি গুলি হয়ত কয়েক বছরের মধ্যেই চোখে সর্ষে ফুল দেখবে। যেমন দেখছে ফেসবুক। কয়েকদিন আগেই ফেসবুকের পাঁচ কোটি অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে নিয়ে
শেষ আপডেট: 9 October 2018 13:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হ্যাকাররা মোটামুটি হ্যাকিংয়ের বিশ্বযুদ্ধ শুরু করে দিয়েছে। ইন্টারনেটে ব্যবসা করে খায় এমন কোম্পানি গুলি হয়ত কয়েক বছরের মধ্যেই চোখে সর্ষে ফুল দেখবে। যেমন দেখছে ফেসবুক। কয়েকদিন আগেই ফেসবুকের পাঁচ কোটি অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে নিয়েছিল হ্যাকাররা। তাদের মধ্যে কিছু কিছু অ্যাকাউন্ট ডার্ক ওয়েবে মাত্র ২১৯ টাকাতে বিক্রিও হচ্ছিল। ভারতের গ্রাহকদের তথ্য ফাঁস নিয়ে ফেসবুকের পেছনে লেগে পড়েছে সিবিআই । হোয়াটস্অ্যাপে ফেসবুক পাসওয়ার্ড রিসেট কোড পাঠানোয় ফেসবুকের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। এ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের এজেন্সিগুলির সঙ্গে মামলায় জেরবার ফেসবুক। এর আগে ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে জিতিয়ে আনার জন্য প্রায় ৯ কোটি লোকের তথ্য ফেসবুক থেকে হাতিয়ে নিয়েছিল কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা সংস্থা। দ্রুত পড়ে গেছিল ফেসবুকের শেয়ার দর। আমেরিকা ও ইউরোপে তদন্ত শুরু হয়েছিল। ফের সুনাম হারাচ্ছে ফেসবুক ,পাল্লা দিয়ে নামছে তাদের শেয়ারের দর।
এই পটভূমিকায় গুগল বাজার থেকে উঠিয়ে নিচ্ছে তাদের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম google+। কারণ তারা মনে করছে, প্রায় পাঁচ লক্ষ google+ অ্যাকাউন্টের তথ্য একটা সময় ফাঁস হয়ে থাকলেও থাকতে পারে। যদিও তাঁরা প্রমাণ পাননি, কিন্তু আশঙ্কা করছেন। কারণ ২০১৫ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত google+ আপডেট হয়েছে। এই সময়ে আপডেটের কাজে যুক্ত থাকা কিছু সফটওয়ারের নির্মাতা সংস্থা, ওই সফটওয়ারগুলির মাধ্যমে google+ গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যে পৌঁছতে পারেন। জেনে থাকতে পারেন গ্রাহকের নাম, ইমেল, ঠিকানা, লিঙ্গ এবং বয়স। যদিও গুগল জানে না এই ব্যাপারটা সেই সব সফটওয়ার নির্মাতাদের মাথায় আদৌ ছিল কিনা। কিন্তু তাঁদের সামনে সুযোগ ছিল। গুগলের ইঞ্জিনিয়াররা এ বছরের মার্চ মাসে অভ্যন্তরীণ তদন্তে বিষয়টি জানতে পারেন। গুগল সিইও সুন্দর পিচাই অবশ্য মুখে এখনও পর্যন্ত কুলুপ এঁটেছেন। google+ এর গ্রাহক দের কিছু জানানো হবে না বলেই গুগল ঠিক করেছে। কিন্তু ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বোমাটা ফাটিয়ে দিয়েছে।
ওয়াকিবহাল, মহল কিন্তু google+ প্ল্যাটফর্মটি বন্ধ করার সিদ্ধান্তে অন্য রহস্যের গন্ধ পাচ্ছেন। ২০১১ সালে চালু হয় google+। কিন্তু গুগলের এই সাইট ৭ বছরেও গুগলের অন্য়ান্য় প্ল্যাটফর্মের মতো জনপ্রিয় হয়নি। অথচ বাজার দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ফেসবুক, টুইটার ও অন্য়ান্য় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি। google+ জনপ্রিয় করার অনেক চেষ্টা করেছিল গুগল। Gmail অ্যাকাউন্ট খুললে google+ অ্যাকাউন্ট খোলা বাধ্যতামূলক করেছিল। তাও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে উঠতে পারেনি google+। তাই হ্যাকারদের গল্প ফেঁদে লোকসানে চলা google+ বন্ধ করতে চলেছে গুগল। এতে একদিকে গুগলের মতো ইন্টারনেট দৈত্যর মুখরক্ষা হবে অন্যদিকে চাপে পড়বে ফেসবুক। সারা বিশ্ব বলবে মাত্র পাঁচ লক্ষ গ্রাহকের তথ্যের সুরক্ষা দিতে পারেনি বলে google+ গুটিয়ে দিল গুগল। আর পাঁচ কোটি অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার পরেও, লজ্জার মাথা খেয়ে ব্যবসা করে চলেছেন জুকেরবার্গ।