দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্রমশ ভয়াবহ হচ্ছে নোভেল করোনাভাইরাস। উৎস দেশ চিন এই মহামারীর প্রকোপ রুখে দিতে পেরেছে বলে দাবি করলেও অন্যান্য আক্রান্ত দেশের অবস্থা ক্রমশই ভয়াল হয়ে উঠছে। সংক্রমণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুও। সারা বিশ্বে এখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৪ হাজারেরও বেশি মানুষের। আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লক্ষেরও বেশি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’ ইউরোপকে আগেই করোনাভাইরাসের এপিসেন্টার বলে ঘোষণা করেছিল। আর বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইতালি। মৃতের সংখ্যা পৌঁছে গিয়েছে ৫ হাজারে। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৬৫১ জনের। এর আগে অবশ্য ইতালিতে একদিনে মৃত্যু হয়েছিল ৭৯৩ জনের। দেশে মড়ক লাগার রেকর্ড গড়েছিল ইতালি। সে দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, পরিসংখ্যান অনুযায়ী একদিনে মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে বটে, তবে এখনও আতঙ্কে সিঁটিয়ে রয়েছেন সমস্ত ইতালীবাসী। সংক্রমণের নিরিখেও চিনকে পিছনে ফেলেছে ইতালি। আক্রান্তের সংখ্যা ৬০ হাজারের কাছাকাছি। প্রতিনিয়ত ইতালিতে বাড়ছে আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা।
আমেরিকাতেও ক্রমশ আশঙ্কা বাড়াচ্ছে করোনাভাইরাস। ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে ৪০০ জনের। সমগ্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩৩ হাজার। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা নিউ ইয়র্কের। জন হপকিনস ইউনিভার্সিটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিউইয়র্কে আক্রান্ত আট হাজারের বেশি। মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৬০ জনের। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র বিল-দে ব্লাসিও বলেছেন, নিউ ইয়র্কের পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়। বরং সংক্রমণ বেড়েই চলেছে পাল্লা দিয়ে। আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থার অভাবও রয়েছে। চিকিৎসা ব্যবস্থার ঘাটতি হলে আগামী দিনে শহরে মহামারী শুরু হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে কেবল আমেরিকা কিংবা ইতালি নয় করোনাভাইরাস মহামারীর আকার নিয়েছে ইরানেও। ইউরোপের অন্যান্য দেশ ফ্রান্স-স্পেন ও অন্যান্য জায়গাতেও অবস্থা যথেষ্টৈ সঙ্কটজনক। স্পেনে জরুরি অবস্থার মেয়াদ বৃদ্ধি করে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো স্যাঞ্চেজ।