দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনের উইঘুর মুসলিমদের উপর নিপীড়ন নিয়ে মুখে কুলুপ আঁটলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। যে ইমরান কাশ্মীর নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে দোরে দোরে গিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে নালিশ জানিয়েছিলেন সেই তিনিই একটি সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট বলে দিলেন, “চিন আমাদের বন্ধু। উইঘুর মুসলিমদের বিষয়ে চিনের সম্পর্কে কোনও খারাপ কথা প্রকাশ্যে বলব না। বেজিং-এর সঙ্গে এ ব্যাপারে যা কথা হওয়ার তা হবে ঘরোয়া আলোচনায়।”
কাশ্মীর থেকে বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা তথা ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর ইমরান একাধিকবার তোপ দেগেছেন নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে। নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপুঞ্জে অভিযোগ তুলে বলা হয়, কাশ্মীরে বন্দুকদের নল দিয়ে সংখ্যালঘুদের দমিয়ে রেখেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। ওখানে মানবাধিকারের লেশমাত্র নেই।
একটি জার্মান সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উইঘুরদের উপর অত্যাচারের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উত্তর দিতে অস্বীকার করেন ইমরান। কারণ হিসেবে ক্রিকেটার থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়া ইমরান বলেন, “চিন আমাদের স্বাভাবিক বন্ধু। আমাদের অর্থনৈতিক ডামাডোলে সবসময় আমরা ওদের সাহায্য পাই। তাই এ নিয়ে আমি প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করব না।”
উইঘুর মুসলিমদের উপর চিনের নিপীড়ন নিয়ে কম অভিযোগ নেই। এবং সেই অভিযোগ নতুন নয়। দীর্ঘদিনের অভিযোগ এই যে, উইঘুর মুসলিমদের মানবাধিকার বলতে কিচ্ছু নেই চিনের মাটিতে। কম পয়সায় তাঁদের শ্রম শুষে নেওয়া থেকে ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দি রাখার মতো মারাত্মক সব অভিযোগ রয়েছে সে দেশের কমিউনিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে। জোর করে তাঁদের ধর্মান্তকরণ করানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ। কিন্তু এসব নিয়ে রা কেটেননি ইমরান।
নিজের এই নীরবতা নিয়ে যুক্তিও দিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি কাশ্মীরের সংখ্যালঘুদের নিয়ে এত চিন্তিত কিন্তু চিনের উইঘুর মুসলমান্দের বিষয়ে আপনি চুপ কেন? এটা কি দ্বিচারিতা নয়? জবাবে তেহেরেক-ই-ইনসানের প্রধান বলেন, “কাশ্মীরে যা হচ্ছে, তার সঙ্গে উইঘুরদের উপর অত্যাচারের কোনও তুলনাই হয় না।”