দ্য ওয়াল ব্যুরো: লেবাননের রাজধানী বেইরুটে ভয়ঙ্কর জোড়া বিস্ফোরণের পরেই ছড়িয়েছিল নাশকতার আশঙ্কা। মনে করা হচ্ছিল, বড় হামলা চালানো হয়েছে এই শহরে। কিন্তু বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা পরেই লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব জানিয়ে দিলেন গুদামে মজুত বিপুল পরিমাণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটে বিস্ফোরণ হওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বেইরুট পোর্টের ধারে একটি গুদামে ২৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মজুত করা ছিল। কৃষিতে সার হিসেবে ব্যবহার করার জন্য সেটা মজুত ছিল। সেই অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটেই বিস্ফোরণ হয়েছে। এটা কোনওমতেই মেনে নেওয়া যায় না যে ছ’বছর ধরে কোনওরকমের সুরক্ষা ছাড়াই সেটা মজুত করে রাখা হয়েছিল।”
দিয়াব আরও বলেন, “সবদিক থেকেই এটা একটা ভয়ঙ্কর বিপর্যয়। যেটা হয়েছে তাকে কোনও মতেই রেয়াত করা হবে না। এই ঘটনার জন্য যারা দোষী তাদের শাস্তি দেওয়া হবে। এই ঘটনার পরে আমরা চুপ থাকতে পারি না।”
লেবাননের নিরাপত্তা প্রধান আব্বাস ইব্রাহিমও প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যকে সমর্থন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ওই গুদামে বিস্ফোরক পদার্থ মজুত করে রাখা হয়েছিল। কয়েক বছর আগে তা মজুত করে রাখা হয়। সেখানেই এই বিস্ফোরণ হয়েছে।
মঙ্গলবার ভারতীয় সময় রাত ৯টা নাগাদ পরপর দুটি বিস্ফোরণে কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে বেইরুট। লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৭৩ জন নিহত হয়েছেন এই ঘটনায়। আহত প্রায় ৪ হাজার। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই ধারণা। কারণ হাসপাতালে ভর্তি করা আহতদের অনেকের অবস্থায় আশঙ্কাজনক। এছাড়া অনেকে এখনও বহুতলের নীচে আটকা পড়ে রয়েছেন বলেও আশঙ্কা। উদ্ধারকাজ চলছে।
শহরের বন্দর এলাকায় বিস্ফোরণটি ঘটেছে। বিস্ফোরণের কয়েক মুহূর্ত পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে একাধিক ছবি-ভিডিও। তাতে দেখা গেছে, বন্দর এলাকায় অনেক বহুতল ভেঙে পড়েছে। অনেক বাড়ি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বেইরুট সমুদ্র বন্দরের আশেপাশের এলাকায় বিস্ফোরণটি ঘটলেও এর তীব্রতা ছড়িয়েছে বহুদূর। কয়েক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ঘরবাড়ির কাচ ভেঙে গেছে। আশপাশের সমস্ত দোকান ধ্বংস হয়েছে। ২৪০ কিলোমিটার দূরে ভূমধ্যসাগরের সাইপ্রাস দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত শোনা গিয়েছে বিস্ফোরণের শব্দ।
ইজরায়েল-লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লা জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে ইজরায়েলের সেনার সংঘর্ষ কয়েক দিন ধরেই চলছিল। যদিও হিজবুল্লা দাবি করেছে, পুরো বিষয়টিই ইজরায়েলের চক্রান্ত। সোমবার রাত থেকে সীমান্তে লড়াইও শুরু হয়। মঙ্গলবারের বিস্ফোরণের পরে কয়েকটি সূত্র এই ঘটনার জন্য ইজরায়েলের দিকে আঙুল তোলে। কিন্তু সব দাবি খারিজ করে আসল কারণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী।