দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সঙ্গে সমস্ত রকম বাণিজ্যিক আদানপ্রদান বন্ধের নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় সরকার। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, সীমান্তের এই অংশ দিয়েই আদানপ্রদান হতো বেআইনি অস্ত্র এবং জাল নোট।
যদিও নিয়ম অনুযায়ী লাইন অফ কন্ট্রোল বরাবর এই ক্রস ট্রেডের মাধ্যমে সীমান্তের দু'পারে থাকা আম জনতার নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসই আদানপ্রদান হওয়ার কথা। যাতে সাধারণ মানুষ কিছুটা সুবিধা পান। সপ্তাহে চারদিন বারামুলা জেলার সালামবাদ এবং পুঞ্চ সেক্টরের ছক্কন-দা-বাগ এলাকার মধ্যে এই বাণিজ্যিক আদানপ্রদান চলতো। এমনকী এই আদানপ্রদানের ক্ষেত্রে কোনও শুল্ক দিতে হতো না সীমান্তের বাসিন্দাদের। বিনিময় প্রথার মাধ্যমেই চলত ব্যবসা। তবে ১৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকেই তা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই অপব্যবহার হচ্ছিল এই বাণিজ্যিক আদানপ্রদানের। অভিযোগ, বেআইনি ভাবে পাকিস্তান ভারতের মাটিতে এই পথ দিয়েই জাল টাকা, নেশার জিনিস এবং অস্ত্রও পাচার করছিল। আর গোয়েন্দা বিভাগের এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই বন্ধ করা হচ্ছে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর বাণিজ্যিক আদানপ্রদান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, এই পথ দিয়ে বিদেশ থেকে আনা বিভিন্ন চোরাই মালও পাচার করত একদল লোক। ফলে সীমান্তের এই অঞ্চলে দিনদিন বাড়ছিল দুর্নীতি। জাল টাকা, নেশার জিনিস, অস্ত্র, কালো টাকা এইসবই হয়ে উঠেছেন ব্যবসার মূল উপাদান। ফলে বাড়ছিল অপরাধের সংখ্যাও। প্রবণতা বাড়ছিল জঙ্গি নাশকতার। এনআইএ-এর রিপোর্টেও বলা হয়েছে এলওসি (LOC) বরাবর এই বাণিজ্যিক কারবারে যুক্ত ছিল পাক মদত পুষ্ট বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনও।
চলতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা সিআরপিএফ-এর কনভয়ে আত্মঘাতী হামলা চালায় পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। শহিদ হন ৪০জন সিআরপিএফ জওয়ান। এই ঘটনার পরেই পাকিস্তানের উপর থেকে মোস্ট ফেভারড নেশন বা MFN খেতাব তুলে নেয় ভারত। নজরে আসে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর বেআইনি ব্যবসার ঘটনাও। এরপরেই ভারত সরকার এই রুটে বাণিজ্যিক আদানপ্রদান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।