দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিন বছর ধরে সম্পর্কের পরেও ভেঙে গিয়েছিল বিয়ে। আর তারপরেই অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করেন প্রাক্তন প্রেমিক। এই ঘটনা সহ্য করতে না পেরে তরুণের উপর অ্যাসিড ছুড়লেন এক তরুণী। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই তরুণ।
ঘটনাটি ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুল জেলার পেড্ডা কোট্টালা গ্রামে। গত শুক্রবার এই হামলা হলেও সম্প্রতি তা প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গিয়েছে, গ্রামের এক তরুণ নগেন্দ্রর সঙ্গে ওই গ্রামেরই এক তরুণী সুপ্রিয়ার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। একটি মুদিখানার দোকানে কাজ করেন নগেন্দ্র। তাঁর পরিবার জানিয়েছে, প্রায় তিন বছর তাঁর সঙ্গে সুপ্রিয়ার সম্পর্ক ছিল। তাঁরা বিয়ে করবেন বলেও ঠিক করেন।
জানা গিয়েছে, নগেন্দ্র ও সুপ্রিয়া বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলেও অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় জাতিভেদ। ফলে দু’জনের পরিবারই এই সম্পর্ক ও বিয়েতে রাজি ছিল না। অনেক চেষ্টা করেও তাদের রাজি করতে পারেননি তাঁরা। ফলে বিয়ে ভেঙে যায় বলে খবর। তার কয়েক মাস পরেই আর একটি মেয়েকে বিয়ে করেন নগেন্দ্র। জানা গিয়েছে, পরিবারের পছন্দ করা লক্ষ্মী নামের একটি মেয়েকে বিয়ে করেন তিনি। আর এতেই চটে যান সুপ্রিয়া।
পুলিশ জানিয়েছে, গত শুক্রবার নগেন্দ্রকে লক্ষ্য করে অ্যাসিড ছোড়েন সুপ্রিয়া। তাতে গুরুতর জখম হন নগেন্দ্র। সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের লোকেরা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানেই আপাতত ভর্তি আছেন তিনি। অ্যাসিড হামলায় তাঁর শরীরের অনেকটা অংশই পুড়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
নগেন্দ্রর পরিবারের অভিযোগ, এই নিয়ে দু’বার তাঁদের ছেলের উপর হামলা করলেন সুপ্রিয়া। গত সপ্তাহেও একবার অ্যাসিড ছোড়েন তিনি। কিন্তু সেবার একটুর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। দ্বিতীয়বারের হামলায় গুরুতর জখম হন ওই তরুণ।
পুলিশ সূত্রে খবর, নগেন্দ্র তাদের জানিয়েছেন, তাঁর ও সুপ্রিয়ার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পরে তাঁর পরিবারের তরফে চাপ দেওয়া হচ্ছিল বিয়ে করার জন্য। সুপ্রিয়াকে তিনি সব জানিয়েছিলেন। তখন নাকি সুপ্রিয়া তাঁর সঙ্গে সম্পর্কে ইতি টানার জন্য তাঁর থেকে টাকাও নেন। তারপরেও তিনি অ্যাসিড ছোড়েন।
নগেন্দ্রর পরিবারের তরফে থানায় সুপ্রিয়ার নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হামলার পর থেকে সুপ্রিয়া পলাতক বলে খবর। তাঁর খোঁজ করছে পুলিশ।