দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হঠাৎ করেই বাড়তে শুরু করেছে করোনা সংক্রমণ। এই অবস্থায় সংক্রমণ কমাতে রাজধানীতে বিয়েতে নিমন্ত্রিতের সংখ্যা ২০০ থেকে কমিয়ে ৫০ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেজরিওয়াল সরকার। মাস্ক না পরলে ২০০০ টাকা জরিমানারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কেন এত দেরি হল, সেই প্রশ্ন তুলে সরকারকে কটাক্ষ করেছে দিল্লি হাইকোর্ট।
সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, এদিন দিল্লি হাইকোর্ট প্রশ্ন করেছে, “আপনারা (দিল্লি সরকার) ১ নভেম্বর থেকে দেখলেন কোন দিকে বাতাস বইছে। কিন্তু আপনারা এখন পদক্ষেপ নিচ্ছেন, কারণ আমরা কিছু প্রশ্ন করেছি। যখন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছিল সেই সময়ই এই ঘণ্টা জোরে ও পরিষ্কারভাবে বাজা উচিত ছিল। যখন আপনারা দেখলেন পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে তখন কেন জেগে উঠলেন না?”
হাইকোর্ট আরও বলে, “কেন ১১ নভেম্বর আমাদের আপনাদের নাড়া দিতে হল? ১ নভেম্বর থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত আপনারা কী করছিলেন? আপনারা কেন ১৮ দিন (১৮ নভেম্বর) অপেক্ষা করলেন সিদ্ধান্ত নিতে? আপনারা কি জানেন এই সময়ের মধ্যে কতগুলো প্রাণ চলে গিয়েছে? যাঁরা নিজেদের কাছের মানুষদের হারিয়েছেন তাঁদের কি আপনারা এর ব্যাখ্যা দিতে পারবেন?”
মঙ্গলবার দিল্লি সরকার ঘোষণা করেছে, বিয়েতে ২০০ জন থেকে জমায়েতের সংখ্যা কমিয়ে সর্বোচ্চ ৫০ করা হল। অথচ তার আগে ১ নভেম্বর থেকে তা বাড়িয়ে ২০০ করা হয়েছিল। তাহলে যেদিন থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করল সেদিন থেকেই কী ভাবে সরকার জমায়েতের পরিমাণ বাড়ানোর নির্দেশ দিল সেই প্রশ্নই তুলেছে হাইকোর্ট।
বুধবার দিল্লিতে নতুন করে ৭৪৮৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ১৩১ জনের। একদিনে দিল্লিতে মৃত্যুর সংখ্যা এটাই সর্বোচ্চ। রাজধানীতে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লাখ ২ হাজার ৮৪ জন। অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা ৪২ হাজার ৪৫৮ জন। এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৭৯৪৩ জনের। দিল্লিতে করোনায় মৃত্যুহার ১.৫৮ শতাংশ, যা জাতীয় হারের থেকে বেশি। সুস্থতার হার ৮৯.৯ শতাংশ, যা জাতীয় হারের থেকে কম।
নভেম্বরের শুরু থেকেই সংক্রমণ বাড়তে থাকায় কেজরিওয়াল সরকারের তরফে জানানো হয় দিল্লিতে করোনার তৃতীয় ওয়েভ শুরু হয়েছে। তাহলে তারপরেও কেন পদ্দক্ষেপ নিতে এত দেরি হল সেই প্রশ্নই তুলেছে হাইকোর্ট।