দ্য ওয়াল ব্যুরো: এতদিন প্রশ্ন উঠেছিল ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন টিকার ট্রায়ালের রিপোর্ট কেন কোনও মেডিক্যাল জার্নালে ছাপা হয়নি। টিকার সুরক্ষা কতটা, সে নিয়েও সংশয় রয়েছে এখনও। এবার বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নাল ‘দ্য ল্যানসেট’ কোভ্যাক্সিন টিকার ট্রায়ালের রিপোর্ট সামনে এনে দাবি করল, এই টিকা মানুষের শরীরে একদম সুরক্ষিত। টিকার ডোজে কোনও জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা অ্যাডভার্স সাইড এফেক্টসের খবর নেই। টিকার ডোজ দেওয়া হয়েছিল যে স্বেচ্ছাসেবকদের, তাঁদের শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে।
গত জুলাই মাস থেকে কোভ্যাক্সিন টিকার ট্রায়াল শুরু হয়েছিল। ল্যানসেট মেডিক্যাল জার্নাল জানিয়েছে, জুলাইয়ের ১৩ থেকে ৩০ তারিখের মধ্যে যে স্বেচ্ছাসেবকদের টিকা ও প্ল্যাসেবো ট্রায়ালে রাখা হয়েছিল তাঁদের মধ্যে ৮২৭ জনকে আলাদা করা হয়েছে। এই স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে আবার ৩৭৫ জনকে তিনটি দলে ভাগ করে টিকার ডোজ দেওয়া হয়। প্রতি দলে ছিলেন ১০০ জন, তাঁদের ভিন্ন ডোজে টিকার ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। প্রথম ডোজ দেওয়ার ১৪ দিন পরে দ্বিতীয় ডোজ দিয়ে ২৮ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। এখন দেখা গেছে, ওই স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরে প্রচুর পরিমাণে ইমিউনোগ্লোবিউলিন (IgG)অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।
ল্যানসেট আরও জানিয়েছে, টিকার ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরে যে সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়, যেমন সূঁচ ফোটানোর জায়গায় ব্যথা, ফোলাভাব, ক্লান্তি, ঝিমুনি, মাথাব্যথা ইত্যাদি দেখা গেছে স্বেচ্ছাসেবকদের। কোনও জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর মেলেনি। টিকার ডোজে তীব্র অ্যালার্জি বা কোনও অ্যাডভার্স সাইড এফেক্টসও দেখা যায়নি।
করোনার টিকাকরণ শুরু হওয়ার পর এখনও অবধি ১০ লাখ ৪৩ হাজার মানুষকে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। সেরাম ইনস্টিটিউটের কোভিশিল্ড টিকা ও ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন ভাগ করেই দেওয়া হচ্ছে। যদিও কোভ্যাক্সিন টিকার ডোজ নিতে আপত্তি করেছেন অনেক স্বাস্থ্যকর্মীই। এখনও অবধি মোট ৫৮০ রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর মিলেছে। অসুস্থ হয়েছেন সাত জন, উত্তরপ্রদেশ ও কর্নাটকে মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। যদিও স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, এই সমস্ত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া টিকার ডোজের কারণে হয়নি। মৃত্যুর কারণও অন্য, যা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর পরেও সন্দেহ যায়নি। কোভ্যাক্সিন টিকা সুরক্ষিত কিনা সে নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভারত বায়োটেক জানিয়েছে, কোভ্যাক্সিন টিকা হল ইনঅ্যাকটিভ ভ্যাকসিন। করোনাভাইরাসের প্রোটিন নিষ্ক্রিয় করে টিকা তৈরি হয়েছে। এই নিষ্ক্রিয় ভাইরাস পার্টিকল শরীরে ঢুকে রোগ ছড়াতে পারবে না, কিন্তু ইমিউন কোষকে সক্রিয় করে তুলতে পারবে। কিন্তু যদি কারও শরীরে জটিল রোগ থাকে বা অ্যালার্জির ধাত থাকে তাহলে টিকার ডোজ না নেওয়াই ভাল। কারা টিকা নিতে পারবেন সে বিষয়ে বিস্তারিত ফ্যাক্ট-শিটও সামনে এনেছে ভারত বায়োটেক।
সংস্থার গাইডলাইনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে কোনও রোগের ওষুধ খাচ্ছেন যাঁরা বা শরীরে কোনও জটিল বা ক্রনিক রোগ রয়েছে এবং তার চিকিৎসা চলছে তাহলে টিকা নেওয়া যাবে না। গর্ভবতী মহিলারা টিকা নিতে পারবেন না। শরীর খুব দুর্বল হলে, ব্লিডিং ডিসঅর্ডার থাকলে টিকা নেওয়া যাবে না।