
শেষ আপডেট: 20 February 2019 15:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্ত্রাসবাদের তীব্র সমালোচনা করলেও, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে পুলওয়ামার ঘটনার উল্লেখ রাখতে রাজি হননি সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমন। কিন্তু তা যেমন ঠিক, তেমন ওই বৈঠকের পর রিয়াধের তরফে দ্ব্যর্থহীন ভাবে জানিয়ে দেওয়া হল, জইশ ই মহম্মদ চিফ মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী হিসাবে ঘোষণা করা উচিত রাষ্ট্রপুঞ্জের। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের পর তার শাস্তিও হওয়া উচিত।
মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী হিসাবে ঘোষণা করার জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জে এর আগেও দু’বার প্রস্তাব এনেছিল নয়াদিল্লি। কিন্তু তা ঘেঁটে দেয় চিন। পাকিস্তানের সঙ্গে চিনের প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সম্পর্ক সুবিদিত। সেই কারণেই মাসুদকে বেজিং আড়াল করছে বলে কূটনীতিকদের ধারনা। কিন্তু পুলওয়ামা কাণ্ডের পর নতুন করে রাষ্ট্রপুঞ্জে প্রস্তাব আনার উদ্যোগ নিয়েছে নয়াদিল্লি। ওই প্রস্তাব আনা হবে ফ্রান্সের তরফে। তাতে যাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ সমর্থন জানায় সে জন্য দৌত্যও শুরু করেছে সাউথ ব্লক। সেই প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের তরফে এই মন্তব্য কূটনৈতিক ভাবে ইতিবাচক বলেই মনে করা হচ্ছে।
পুলওয়ামা কাণ্ডের পর পরই ওই ঘটনার দায় স্বীকার করেছিল জইশ ই মহম্মদ। গত ৬ দিন ধরে তা নিয়ে তোলপাড় চলছে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে। বুধবার সৌদি আরবের যুবরাজের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকেও তা উঠে আসে। সৌদি যুবরাজের সামনে এ ব্যাপারে দীর্ঘ প্রেজেন্টেশন দেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। তার পরই একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সৌদি প্রতিনিধিদলের সদস্য তথা সে দেশের বিদেশ প্রতি মন্ত্রী আদেল আল জুবের বলেন, “রাষ্ট্রপুঞ্জে সন্ত্রাসবাদীদের নাম তালিকাভুক্ত করার ব্যাপারে রিয়াধের অবস্থান খুবই স্বচ্ছ। যদি কেউ সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকে, জঙ্গি সংগঠনের সদস্য হয়ে মানুষ খুন করে, নাশকতামূলক কাজের জন্য আর্থিক বা অন্যভাবে মদত দেয়, তা হলে তাকে ধরে এনে শাস্তি দেওয়া উচিত। এমন ব্যবস্থা করা উচিত যাতে দুনিয়ায় ঘুরে বেড়াতে না পারে।”
পুলওয়ামাতে জঙ্গি হানার দু'দিন পরেই পাকিস্তান সফরে গিয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমন। সেখানে গিয়ে পাকিস্তানের জন্য ২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের কথাও ঘোষণা করেন তিনি। তারপরেই মঙ্গলবার সন্ধেবেলা ভারতে পা রাখেন সৌদি যুবরাজ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পর সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে মুখ খুললেও পুলওয়ামা হামলার প্রসঙ্গ আনেননি তিনি। এই প্রসঙ্গে সৌদি মন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব প্রথম সারিতেই থাকবে। তিনি আরও বলেন, "সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বেশ ভালো। জঙ্গিদের ব্যাপারে আমরা মাঝেমধ্যেই তথ্য আদান-প্রদান করে থাকি। কীভাবে জঙ্গি হামলা বন্ধ করা যায়, সে ব্যাপারেও আমাদের আলোচনা হয়।" এমনকী সন্ত্রাসবাদকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব যে সৌদিকে কষ্ট দেয়, সে কথাও এ দিন বুঝিয়ে দিয়েছেন আদেল আল জুবের। তিনি বলেন, "দুই দেশের সঙ্গেই আমাদের সম্পর্ক খুব ভালো। তাই দু'দেশের মধ্যের এই দ্বন্দ্ব আমাদের কষ্ট দেয়। আমাদের মনে হয়, বিশ্বের এই গুরুত্বপূর্ণ দু'দেশের মধ্যেকার লড়াই গোটা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর।" কিন্তু সন্ত্রাসবাদ রুখতে পাকিস্তান কি যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে? শুধু ভারত নয়, আরও অনেক দেশ দাবি করে, বেশ কিছু জঙ্গি সংগঠন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পাকিস্তানের মদত পেয়ে থাকে। এই ব্যাপারে সৌদির কী অবস্থান? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, "আমরা আইন প্রনয়ণ করি না। দেশের সুরক্ষার ব্যবস্থা করাও আমাদের কাজ নয়। আমাদের কাজ অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে চলা। তবে এটা বলতে পারি, বিশ্বের প্রতিটা দেশের উচিত সন্ত্রাসবাদ বন্ধে এগিয়ে আসা। তবেই বিশ্বে শান্তি আসবে।"