দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরিফ মহম্মদ। বছর ৩৬-এর এই কাশ্মীরি যুবক নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করেন মুম্বইয়ের এক বহুতলে। বুধবার সকালে বাড়ি থেকে ফোন আসে আরিফের কাছে। বলা হয়, তাঁর বাবার স্ট্রোক হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে। লকডাউনে বন্ধ সব। তাই অসুস্থ বাবার জন্য সাইকেল চালিয়ে বাণিজ্য নগরী থেকে জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরি সেক্টরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন আরিফ।
আরিফ সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, "লকডাউনের ফলে সব বন্ধ। বুধবার সারাদিন আমি অনেক চেষ্টা করেছিলাম একটা গাড়ি জোগাড় করার। কিন্তু কেউ রাজি হয়নি। তাই এক সহকর্মীর কাছ থেকে ৫০০ টকা দিয়ে সাইকেল নিয়ে বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিই।"
শুক্রবার বিকেলে তিনি ছিলেন গুজরাত-মহারাষ্ট্র সীমান্তে। আরিফ জানিয়েছেন, সাইকেলে কয়েক বোতল জল আর পকেটে ৮০০ টাকা নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন তিনি। অবশিষ্ট রয়েছে দু'বোতল জল। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রওনা দিয়েছেন মুম্বই থেকে। এই যুবক বলেন, "জানি না কবে গিয়ে পৌঁছতে পারব। পৌঁছেও বাবাকে জীবীত দেখতে পাব কি না!"
তাঁর আর ভাই-বোন নেই। বাড়িতে রয়েছেন মা, স্ত্রী আর সন্তান। তাই বাবার জন্য তাঁকে পৌঁছতেই হবে। বৃহস্পতিবার সারাদিন সাইকেল চালানোর পর রাতে ঘুমিয়েছিলেন রাস্তার ধারে একটি বাসস্ট্যান্ডে। শুক্রবার সকাল থেকে ফের প্যাডেল।
আরিফ জানিয়েছেন, রাস্তায় তাঁকে অনেক পুলিশকর্মী দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞেস করেছেন। শোনার পর ছেড়েও দিয়েছেন॥ কিন্তু কেউ সাহায্যের জন্য হাত বাড়ায়নি। মাত্র ২৮ দিন হল মুম্বইয়ে কাজ করছেন। আগে আরব আমিরশাহিতে কাজ করতেন। সেই কাজ চলে যাওয়ার পর দেশে ফিরে আসেন। তারপর এই কাজে যোগ দেন তিনি। আপাতত বাড়ির সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন আরিফের। কারণ, ফোনের চার্জ শেষ। রাস্তায় কোথাও চার্জ দিতে পারেননি। ফলে তিনি যেমন বাবার খবর নিতে পারছেন না তেমন বাড়ির লোকও জানেন না আরিফ কোথায়।
ইতিমধ্যেই ভিনরাজ্যে কাজে যাওয়া বহু শ্রমিকের বাড়ি ফেরার ভয়াবহ কাহিনী উঠে এসেছে। মর্মান্তিক পরিণতিও হয়েছে কারও কারও। তাই আরিফের খবর সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে আসতেই জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন জানিয়েছে লক্ষ্মণপুর বর্ডার থেকে তারা আরিফকে রাজৌরি সেক্টরে পৌঁছে দেবে। তাদের তরফে মহারাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। যাতে আরিফের একটা ব্যবস্থা করা যায়। যদিও সে ব্যাপারে এখনও কিছু নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি।