দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা আক্রান্ত হয়েছেন শুনেই হাসপাতালের মধ্যে আত্মহত্যা করলেন তবলিঘ-ই-জামাতের এক সদস্য। গলায় ব্লেড চালিয়ে আইসোলেশন ওয়ার্ডের বাথরুমে আত্মহত্যা করেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের আকোলাতে এক হাসপাতালে। সেখানে কোভিড ১৯ উপসর্গ নিয়ে ভর্তি থাকা তবলিঘ-ই-জামাতের এক সদস্যের রিপোর্টে করোনা পজিটিভ আসে। শুক্রবার সন্ধ্যায় এই রিপোর্ট পাওয়ার পরে শনিবার সকালে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডের বাথরুমে গলায় ব্লেড চালিয়ে আত্মঘাতী হন ৩০ বছরের ওই যুবক।
জানা গিয়েছে, ওই যুবক অসমের বাসিন্দা। দিল্লির নিজামুদ্দিনের জমায়েতে অংশ নেওয়ার পরে ৬ থেকে ৮ মার্চের মধ্যে আরও কিছু জামাত সদস্যের সঙ্গে আকোলা আসেন তিনি। কয়েক দিন আগে করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় তিনি নিজেই হাসপাতালে এসে ভর্তি হন। এই আত্মহত্যার পরে পুলিশের তরফে ওই যুবকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যুবকের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার শেষকৃত্য কী ভাবে করা হবে সেই নিয়ে আলোচনা করছে প্রশাসন।
দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকার মসজিদে তবলিঘ-ই-জামাতের এই জমায়েত ঘিরে ভারতে করোনা সংক্রমণ বেশ খানিকটা বেড়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভারতে করোনা আক্রান্তের এক-তৃতীয়াংশ জামাত সদস্য। এই সদস্যদের জন্যই দেশের একাধিক রাজ্যে ছড়িয়েছে সংক্রমণ। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জামাত সদস্যদের চিহ্নিত করতে হিমশিম খেতে হয়েছে বিভিন্ন রাজ্য সরকারকে। অনেক ক্ষেত্রেই জমায়েতে অংশ নেওয়া অনেক সদস্য লুকিয়ে থেকেছেন। তার ফলে এই সংক্রমণ আরও ছড়িয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, এই জমায়েতের জন্যই ভারতে সাধারণ ভাবে যে সময়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হত, তার অর্ধেক সময়ে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৭৪৪৭। তার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৩৯ জনের। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৬৪৩ জন। অর্থাৎ এই মুহূর্তে দেশে করোনা অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা ৬৫৬৫। এর মধ্যে সবথেকে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা মহারাষ্ট্রে। এই রাজ্যে ১৫৭৪ জন কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত। মৃত্যু হয়েছে ১১০ জনের। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৭৪ জন।