দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-শ্রীনগর হাইওয়ের উপর হিজবুল মুজাহিদিনের দুই কুখ্যাত কম্যান্ডারের সঙ্গে একই গাড়িতে ধরা পড়েছিলেন জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ডিএসপি দাভিন্দর সিং। অভিযোগ উঠেছিল নিজের কোয়ার্টারে ওই জঙ্গিদের লুকিয়ে রেখেছিলেন দাভিন্দর। শুক্রবার দিল্লির আদালতে জামিন পেয়েছেন। ব্যক্তিগত এক লক্ষ টাকার বিনিময়ে জামিন দেওয়া হয়েছে তাঁকে। এই ঘটনায় জড়িত আরও এক অভিযুক্ত ইরফান শফি মীর। জামিন পেয়েছেন তিনিও। দিল্লির স্পেশ্যাল সেলের তরফে মামলা রুজু হয়েছিল দাভিন্দরের বিরুদ্ধে। তবে গ্রেফতারের পর নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে চার্জশিট পেশ করতে পারেনি পুলিশ। আর তাই জামিন পেয়েছেন দাভিন্দর সিং এবং ইরফান শফি মীর। এমনটাই জানিয়েছেন তাঁদের আইনজীবী এম এস খান।
প্রসঙ্গত, চলতি বছর জানুয়ারি মাসে গ্রেফতার হন দাভিন্দর সিং। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রেফতারের মাস ছয়েক আগে সাহসিকতার জন্য রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেয়েছিলেন দাভিন্দর।
অভিযোগ ওঠে, নিজের বাড়িতেই এই দুই হিজবুল জঙ্গিকে আশ্রয় দিয়েছিলেন দাভিন্দর সিং। গ্রেফতারের পরে দাভিন্দরের বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। আর তারপরেই প্রকাশ্যে আসে এই তথ্য। জানা যায়, হিজবুলের এই জঙ্গিদের নিজের বাড়িতে লুকিয়ে রেখেছিলেন দাভিন্দর। শ্রীনগরের বাদামিবাগ ক্যান্টনমেন্টে ছিল দাভিন্দর সিংয়ের কোয়ার্টার। আর সেখানেই এই দুই হিজবুল জঙ্গিকে লুকিয়ে রেখেছিলেন তিনি।
প্রায় দু’দশক আগের সংসদ হামলার সময়ে আফজল গুরুও এই পুলিশ অফিসারের নাম উল্লেখ করেছিলেন। ২০০১ সালে সংসদ হামলার পরে অভিযুক্ত আফজল গুরু জেল থেকে তাঁর আইনজীবীকে যে চিঠি লিখেছিলেন, তাতে ডিএসপি দাভিন্দরের নাম ছিল। আফজল দাবি করেছিল, সংসদ হামলায় জড়িত থাকা এক জঙ্গি মহম্মদকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার জন্য আফজলের ওপর জোর খাটিয়েছিলেন দাভিন্দর সিং। তখন তিনি বদগামের হুমহামায় দায়িত্বে ছিলেন।
জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ জানিয়েছে, এই হিজবুল জঙ্গিকে দিল্লি পাঠানোর ব্যবস্থা করছিলেন দাভিন্দর। যাতায়াতের জন্য জম্মু-শ্রীনগর হাইওয়েকেই বেছে নেন তিনি। সেই সময়েই কাশ্মীর পুলিশের হাতে ধরা পড়ে তারা। সূত্রের খবর, ধৃত জঙ্গিদের মধ্যে ছিল কুলগামে বাঙালি শ্রমিক হত্যার মূল অভিযুক্ত নাভিদ বাবু। সেসময় জানা গিয়েছিল, নাভিদ বাবু ছাড়াও ইরফান এবং রফি নামের দুই জঙ্গি তখন এসেছিল দাভিন্দরের বাড়িতে।