দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপির তৈরি শব্দবন্ধ দিয়েই ভাষা ইস্যুতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন শশী তারুর।
সম্প্রতি কেন্দ্রের একটি ওয়েবিনার চলাকালীন অ-হিন্দিভাষী যোগশিক্ষক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ‘হিন্দি বুঝতে বা বলতে না পারলে অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে যেতে’ বলেন আয়ুষ মন্ত্রকের সচিব রাজেশ কোটেচা। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এবার সেই ইস্যুতেই কেন্দ্রীয় সরকার তথা বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিরুঅনন্তপুরমের কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর।
তিনি টুইট করে লিখেছেন, “কেন্দ্রীয় সরকারের যদি ন্যূনতম শিষ্টাচার বোধ থাকে, তাহলে এখনই ওই পদে একজন তামিলকে বসানো উচিত।” সেই সঙ্গে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, “টুকরে টুকরে গ্যাং কি ক্ষমতায় আসীন? যাঁরা ভারতের নিজস্ব বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য চুরমার করতে চায়!”
প্রসঙ্গত এই শব্দ বিজেপি তথা গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল কয়েক বছর আগে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল ছাত্রছাত্রীর উদ্দেশে। জেএনইউ ক্যাম্পাসে স্লোগান উঠেছিল, ‘ভারত তেরে টুকরে হোঙ্গে ইনশাল্লাহ ইনশাল্লাহ!’ তারপর থেকে টুকরে টুকরে গ্যাং শব্দটি রাজনৈতিক হয়ে ওঠে। এবার সেই শব্দ দিয়েই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
ক'দিন আগেই হিন্দি বলা নিয়ে সিআইএসএফ-কর্তার সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়া ডিএমকে সাংসদ তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কানিমোঝি এই বিষয়টি নিয়ে কড়া ভাষায় আয়ুষ মন্ত্রী শ্রীপদ নায়েককে চিঠি লিখেছেন। ওই আমলার শাস্তির দাবিও উঠেছে। এর মধ্যে আবার গত শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল বক্তৃতার সময়ে শিক্ষামন্ত্রী রমেশ নিশঙ্ক পোখরিয়াল বলেন, “বিশ্বে ভারতের পরিচিতি হিন্দিতেই!” খোদ মন্ত্রী এমন বলায় প্রশ্ন উঠেছে, তা হলে কি বিজেপি হিন্দি চাপিয়ে দিতে চাইছে?
আঞ্চলিক ভাষাগুলিকে নানা ভাবে গুরুত্বহীন করে দিয়ে অ-হিন্দিভাষীদের উপরে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে গত কয়েক বছরে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। হিন্দির মতোই বাংলা, মালয়ালি, কন্নড়, তামিল-সহ একাধিক ভাষা সরকারি ভাষার স্বীকৃতি পেলেও বিজেপি ও সঙ্ঘ পরিবারের একাংশ নানা ভাবে হিন্দিকে ভারতের 'জাতীয় ভাষা' বলে প্রচার করছে বলে অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে।