দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার প্রথম বার তা নিয়ে মুখ খুললেন রাহুল গান্ধী।
এদিন সংসদ ভবন চত্বরে এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেন, “জ্যোতিরাদিত্য ওঁর আদর্শকে পকেটে পুরেছেন। কারণ তিনি ভয় পেয়েছেন। আমি ওঁর মনের কথা জানি। ওঁর মনে এক রকম আর মুখে আরএক রকম বলছেন”।
এখানেই থেমে না থেকে রাহুল বলেন, “ও গেছে ঠিকই। কিন্তু ওখানে না পাবেন সম্মান-মর্যাদা, না কাজ করে আনন্দ পাবেন।”
বস্তত রাহুল গান্ধী যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর থেকেই জ্যোতিরাদিত্য-শচীন পাইলটের সঙ্গে তাঁর সখ্য বাড়ে। কংগ্রেসের এই দুই তরুণ নেতাকে রাহুলের আগ্রহেই মন্ত্রিসভায় নিয়েছিলেন মনমোহন সিং। তাঁরা জ্যোতিরাদিত্য, শচীন, জীতেন্দ্র সিং, অশোক তাওয়ার, দীপেন্দ্র হুড্ডাকে টিম রাহুল বলেই জানতেন কংগ্রেসের লোকজন।
রাহুল ঘনিষ্ঠদের মতে, প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি বোঝাতে চেয়েছেন যে জ্যোতিরাদিত্য আদতে মানসিক ভাবে ধর্মনিরপেক্ষ। কিন্তু রাজনৈতিক ভবিষ্যতের কথা ভেবে ভয় পেয়েছেন এবং তাই আপস করে নিয়েছেন বিজেপির সঙ্গে। তাঁর মতাদর্শকে পকেটে পুরে নিয়েছেন। স্বাভাবিক ভাবেই মনে প্রাণে কোনও ধর্মনিরপেক্ষ নেতাকে বিজেপির কর্মীরা যেমন সহজে গ্রহণ করবেন না বা মর্যাদা দেবেন না, তেমনই জ্যোতিরাদিত্যও আনন্দে কাজ করতে পারবেন না।
যদিও কংগ্রেসের মধ্যে থেকেই এদিন পাল্টা প্রশ্ন উঠেছে রাহুলের দিকে। রাহুল বলেছেন যে জ্যোতিরাদিত্য ভবিষ্যতের কথা ভেবে ভয় পেয়েছেন। সে প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেসের তরুণ প্রজন্মের নেতারা ঘরোয়া আলোচনায় বলেন, জ্যোতিরাদিত্যকে ভয় দেখাল কে? কংগ্রেসের বৃদ্ধতন্ত্র? রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তির অভাব? কংগ্রেসে নেতৃত্বের সংকট, নাকি জড়তা ও স্থবিরতা?